রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীতে নারীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও হয়রানিমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’। গোলাপি রঙের এই বিশেষ বাসগুলোর চালক এবং কন্ডাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নারীরাই। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে এ বিশেষ পরিবহন সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হচ্ছে। উদ্বোধনের দিন বিকেলে যাত্রীচাহিদা সাপেক্ষে প্রাথমিক চলাচল শুরু হলেও পরদিন থেকে নির্ধারিত রুটগুলোতে নিয়মিত সেবা দেওয়া হবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়কগুলোতে ১০টি বিশেষ বাস নিয়ে এ সেবা চালু করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম ও বগুড়া জেলাতেও একই ধরনের বাস নামানো হচ্ছে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি গণপরিবহনে নারীদের স্বস্তি নিশ্চিত করা এবং দেশের পরিবহন খাতে নারীদের পেশাগত অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করার লক্ষ্য থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আবাসিক এলাকা থেকে বাসগুলো চলাচল করবে। নির্ধারিত রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুনবাজার (কোকাকোলা)-মতিঝিল, তালতলা-মতিঝিল, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার-মতিঝিল, মিরপুর-১০-মতিঝিল, মিরপুর-১২-মতিঝিল, মিরপুর-মতিঝিল, মোহাম্মদপুর-মতিঝিল এবং আব্দুল্লাহপুর-কোয়ার্টার-জিপিও রুট। এর বাইরে গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর রুটেও একটি বিশেষ বাস সেবা চালু রাখা হবে।
রুট বিন্যাস অনুযায়ী, নতুনবাজার থেকে মতিঝিলগামী বাসটি বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, কাকরাইল, পল্টন ও গুলিস্তান হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাবে। একইভাবে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ডেমরা ও আব্দুল্লাহপুর থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল অতিক্রম করে মতিঝিলে যাবে, যাতে কর্মজীবী নারী ও নারী শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে তাদের কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারেন।
রাজধানীর বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়েও এই বিশেষ সেবা সম্প্রসারিত করা হয়েছে। বগুড়া জেলায় শেরপুর থেকে মাটিডালি রুটে দুটি এবং চট্টগ্রাম মহানগরের কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা রুটে দুটি বাস নারীদের জন্য চলাচল করবে। সব মিলিয়ে প্রথম পর্যায়ে মোট ১৪টি বাস দিয়ে এ উদ্যোগ কার্যকর করা হচ্ছে।
বিআরটিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক নারী কর্মজীবী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রী গণপরিবহন ব্যবহার করেন। তবে পিক-আওয়ারে অতিরিক্ত ভিড়, ওঠা-নামার জটিলতা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত সামাজিক আচরণের কারণে নারীদের প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এ ধরনের বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা চালু হলে নারীদের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার কার্যকর সমাধান হবে। যাত্রীদের ইতিবাচক সাড়া এবং সার্বিক চাহিদা মূল্যায়ন করে ভবিষ্যতে বাসের সংখ্যা ও রুটের পরিধি আরও বৃদ্ধি করার পূর্ণ পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করাই নয়, বরং সম্পূর্ণ নারীকেন্দ্রিক এই বাস পরিচালনার মাধ্যমে দেশের গণপরিবহন খাতে নারীদের কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। নিয়মিত ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ সেবা অব্যাহত রাখা সম্ভব হলে তা দেশের সামগ্রিক পরিবহন খাতে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।