অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক: চীনের সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্বের ভিত্তিতে পাটপণ্যের বহুমুখী উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে বাজারে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে এবং প্রান্তিক চাষিরাও পাট চাষে নতুন করে উদ্বুদ্ধ হবেন বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, চীন ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং কাঁচামালের অভিজ্ঞতাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের টেক্সটাইল খাতের রপ্তানি আয় বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ করা সম্ভব।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ টেক্সটাইল অ্যান্ড ফ্যাশন কনফারেন্স’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। দুই দেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের শীর্ষ উদ্যোক্তা, গবেষক এবং নীতিনির্ধারকদের উপস্থিতিতে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিশ্বজুড়ে পরিবেশবান্ধব তন্তু হিসেবে পাট ও টেক্সটাইল পণ্যের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। চীন বর্তমানে বিশ্ব টেক্সটাইল ও ফ্যাশন শিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এবং তাদের উচ্চপ্রযুক্তির প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত। অন্যদিকে, বাংলাদেশ উন্নতমানের কাঁচা পাট উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয়। দুই দেশের এই পারস্পরিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যৌথ বিনিয়োগ ও যৌথ কারখানা স্থাপন করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের বহুমুখী পাটপণ্য রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে স্থানীয় বাজারে পাটের চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত ফসলের উপযুক্ত মূল্য পাবেন।
সম্মেলনে চীনে সরাসরি প্রক্রিয়াজাত পাট এবং বহুমুখী টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি দূরীকরণ এবং টেকসই শিল্পায়নের লক্ষ্যে সরকার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল খাতের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের আধুনিকীকরণে চীনের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা আদান-প্রদানের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “আমাদের লক্ষ্য কেবল ঐতিহ্যবাহী পাটপণ্য রপ্তানিতে সীমাবদ্ধ থাকা নয়, বরং আধুনিক ফ্যাশন ও কারিগরি টেক্সটাইলের সঙ্গে পাটের মিশ্রণ ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরি করা। শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিময় তৈরি হলে আমাদের তরুণ প্রজন্ম এবং টেক্সটাইল প্রকৌশলীরা বৈশ্বিক মানের ডিজাইন উদ্ভাবনে সক্ষম হবেন।”
সম্মেলনে উপস্থিত বাণিজ্য ও অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীনের মতো বৃহৎ অর্থনীতির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কারখানা স্থাপন ও প্রযুক্তি বিনিময় শুরু হলে তা বাংলাদেশের সামগ্রিক শিল্প খাতে গভীর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব টেক্সটাইল পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে পাটভিত্তিক শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ এলে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগও প্রসারিত হবে।
অনুষ্ঠানে দুই দেশের প্রতিনিধিরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে প্রযুক্তি স্থানান্তর, যৌথ প্রদর্শনী আয়োজন এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণের ওপর জোর দেন। সম্মেলন শেষে উভয় দেশের উদ্যোক্তারা আধুনিক ফ্যাশন ও টেক্সটাইলে পাটের বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়াতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।