জাতীয় ডেস্ক
গত ছয় মাসে দেশে বাকস্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষায় সর্বোচ্চ মানদণ্ড স্থাপিত হয়েছে এবং এ সময়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক নিপীড়ন চালানো হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি জানান, নানা উসকানি ও প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়ে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রেখেছে।
সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত কার্যালয়ের ‘শাপলা’ মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত এক বিশেষ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সরকারের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী বিষয়ের অগ্রগতি ও ছয় মাসের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষি উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে নির্বাচনী ইশতেহার ও জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের প্রতিটি নীতি ও পদক্ষেপে সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিফলিত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত ছয় মাসে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও নীতিগত উদ্যোগে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমর্থন মিলেছে। প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন স্থানে গণসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি সেই আস্থারই প্রমাণ দেয়।
মাহদী আমিন তাঁর বক্তব্যে সরকারের রাজনৈতিক পটভূমি ব্যাখ্যা করে বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার পেছনে দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাস রয়েছে। বিগত দেড় দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই সরকারের মূল অঙ্গীকার।
তিনি আরও বলেন, বিগত দিনগুলোতে বাকস্বাধীনতা চর্চার ক্ষেত্রে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সীমা অতিক্রমের ঘটনা ঘটলেও সরকার কোনো দমনমূলক পদক্ষেপ নেয়নি। বরং বহুদলীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রেখে প্রশাসন পরিচালনা করা হচ্ছে।
জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের ওপর আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সংসদ অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। আইনসভায় সদস্যরা মুক্তভাবে আলোচনা ও গঠনমূলক সমালোচনা করার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জনআকাঙ্ক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংসদের প্রথম অধিবেশনেই নজিরবিহীনভাবে শতাধিক অধ্যাদেশকে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর করা হয়েছে।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই অবস্থান প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আইনের শাসন অক্ষুণ্ণ রেখে জনকল্যাণমূলক নীতি বাস্তবায়ন করাই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য বলে সভায় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।