অপরাধ ডেস্ক
ফরিদপুর সদর উপজেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মেহেরুন্নেসা বৃষ্টি ওরফে মেহু (২৩) নামের এক নারীকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ আদালত সংক্ষিপ্ত বিচারিক প্রক্রিয়া বা ‘সামারি ট্রায়াল’-এর মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত করে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি আভিযানিক দল ফরিদপুর সদর উপজেলার কুঠিবাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। আভিযানিক দলটির উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টার সময় মেহেরুন্নেসা বৃষ্টিকে তার নিজ দখলীয় বসতবাড়ির সামনের গলি থেকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে বিধি মোতাবেক তল্লাশি চালিয়ে তার হেফাজত থেকে ৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
আটকের পর প্রয়োজনীয় আইনগত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মেহেরুন্নেসা বৃষ্টিকে ফরিদপুর জেলার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে আসামিকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও অতিরিক্ত মেয়াদের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। আদালতের আদেশের পর আসামিকে সাজা পরোয়ানামূলে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শিরীন আক্তার জানান, মাদক নির্মূলে নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃত নারীকে ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটকের পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাৎক্ষণিকভাবে দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাদকের বিস্তার রোধ এবং তরুণ সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে জেলায় মাদকবিরোধী এ ধরনের সাড়াসি অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ বা সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। মাদকের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যন্ত ও শহরতলি এলাকায় খুচরা পর্যায়ে মাদক বিক্রির প্রবণতা বন্ধে এমন তাৎক্ষণিক বিচারিক পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হলে অপরাধীদের মধ্যে আইনভঙ্গের প্রবণতা হ্রাস পায়। ফরিদপুর সদর ও এর আশপাশের এলাকাগুলোকে মাদক বাণিজ্যের বিস্তার রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত টহল, চিহ্নিত স্পটগুলোতে আকস্মিক অভিযান এবং স্থানীয় জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদক চোরাচালানের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।