আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে শামসো বিবি নামে এক জনপ্রিয় নারী টিকটক কনটেন্ট ক্রিয়েটর নিহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘আয়েশা গিলামানা’ নামে পরিচিত ছিলেন। ভাই ও বোনের সঙ্গে গাড়িতে ভ্রমণকালে অজ্ঞাতপরিচয় দুই মোটরসাইকেল আরোহী তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তাঁর বোন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতের বাবার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় পুলিশ একটি হত্যা মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ আগস্ট সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা ফজল সাহেবজাদা থানায় একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন শামসো বিবি কাশিফ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি ফোন কল পান। ফোনের মাধ্যমে তাঁকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে নেওয়া হয়। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে শামসো বিবি তাঁর ১৫ বছর বয়সী বোন আসিমা এবং ভাই নেয়ামতুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে রওনা হন।
যাত্রাপথে একটি পেট্রোল পাম্পের কাছাকাছি পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেল আরোহী দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালাতে শুরু করে। এ সময় একটি বুলেট শামসো বিবির ঘাড়ে বিদ্ধ হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। গুলির আকস্মিকতায় চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটি পার্শ্ববর্তী অন্য একটি যানবাহনের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে শামসো বিবির বোন আসিমা গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেন।
নিহতের পিতা পুলিশকে অবহিত করেছেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সক্রিয় থাকা শামসো বিবির অনুসারীর সংখ্যা ছিল ১৩ লক্ষাধিক। তবে তাঁর পেশাগত ও সামাজিক জীবনের বাইরে কাউসার এবং জাভেদ নামের দুই ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘদিনের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। ফজল সাহেবজাদার দাবি, পূর্বে পাওনা অর্থ ফেরতের বিষয়কে কেন্দ্র করে ওই দুই ব্যক্তি শামসো বিবিকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি এর আগে দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদের সংশ্লিষ্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তদন্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, আর্থিক বিরোধ কিংবা পূর্বশত্রুতার জের ধরেই এই পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। ঘটনায় জড়িত বন্দুকধারীদের শনাক্তকরণ এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ দল ইতোমধ্যে অভিযান পরিচালনা করছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের ওপর সহিংস হামলার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা ঝুঁকি, সাইবার হুমকি এবং সামাজিক বিরোধের কারণে সৃষ্ট সংঘাত প্রায়ই প্রাণহানিতে রূপ নিচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে শামসো বিবির হত্যাকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সুরক্ষা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে নজরদারি বৃদ্ধির দাবি তুলছে।