বিশেষ প্রতিবেদক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর প্রকাশ ও অবমাননাকর মন্তব্য করে হয়রানি করার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। একটি নির্দিষ্ট ফেসবুক আইডি থেকে ক্রমাগত সাইবার বুলিং ও তথ্য ফাঁসের শিকার হয়ে তিনি এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন এবং অনুমতি ছাড়া কারো ব্যক্তিগত যোগাযোগ নম্বর প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়াকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সম্প্রতি চলচ্চিত্র পরিচালক মোহাম্মদ ইকবালের নতুন নির্মাণ ‘গুলশানের চামেলি’-তে একজন আইনজীবীর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন বাঁধন। কাজের এই ব্যস্ততার মধ্যেই ‘মারুফ খান মুন্না’ নামের একটি ফেসবুক পেজ ও আইডি থেকে অভিনেত্রীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন ধরনের আপত্তিজনক বার্তা ও পোস্ট প্রকাশ করা শুরু হয়। একপর্যায়ে ওই প্ল্যাটফর্ম থেকে তার ব্যক্তিগত ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি জনসম্মুখে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে তিনি ক্রমাগত ফোন কল ও মেসেজের মাধ্যমে মানসিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানির তথ্য-প্রমাণ ও স্ক্রিনশট প্রকাশ করে একটি দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো ব্যক্তির সম্মতি ব্যতিরেকে তার ব্যক্তিগত স্পর্শকাতর তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া সাইবার অপরাধের শামিল এবং এটি দেশের প্রচলিত আইনি ব্যবস্থায় একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রাজনৈতিক বক্তব্য বা নারীদের সুরক্ষার আশ্বাস প্রদানকারী বিভিন্ন গোষ্ঠীর অনলাইন সমর্থকদের এমন আচরণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একদিকে নারীদের নিরাপত্তার দাবি তোলা এবং অন্যদিকে অনলাইনে তাদের ওপর দলবদ্ধভাবে সাইবার হামলা ও হয়রানি চালানো চরম বৈপরীত্য নির্দেশ করে।
হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে তাকে নীরব করে রাখার চেষ্টা সফল হবে না উল্লেখ করে আজমেরী হক বাঁধন আরও জানান, অতীতেও নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি ও মানসিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হয়েছে। পেশাদার থেরাপি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং আত্মউন্নয়নের মাধ্যমে তিনি নিজেকে সংযত ও ইতিবাচক রেখেছেন। কোনো হুমকি বা সাইবার আক্রমণ তাকে ভীত করতে পারবে না বলে তিনি সতর্ক করে দেন।
অনলাইনে নারীদের নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি বাংলাদেশে ক্রমেই একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে বিনোদন জগতের তারকা ও প্রখ্যাত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস, চরিত্রহনন এবং সংঘবদ্ধ আক্রমণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা বিধিমালা অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া কারো ব্যক্তিগত নম্বর ও স্পর্শকাতর তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অনলাইন সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাইবার ক্রাইম ইউনিটের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি, যাতে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হয়।