রাজধানী ডেস্ক
সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় চলাচলকারী তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশা চলাচলের ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল করতে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এর পাশাপাশি এসব যানের লাইসেন্সিং ও নিবন্ধনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সমন্বিত কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ এবং বিদ্যমান বিধিমালা যুগোপযোগী করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভায় এসব সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার কথা জানানো হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় নগর এলাকার বর্তমান যোগাযোগ পরিস্থিতি, যানজট পরিস্থিতি, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ এবং বিদ্যমান বাস্তবতার আলোকে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা ব্যবস্থাপনার নানান দিক নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। সভায় অংশগ্রহণকারী অংশীজনরা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করার বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ এবং স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর আলোকে ই-রিকশার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। একটি সুষ্ঠু ও কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে শহরাঞ্চল ও স্থানীয় সরকার এলাকাগুলোতে তীব্র যানজট নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে এবং সার্বিক সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে। স্থানীয় প্রশাসন ও সরকার কাঠামোর মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে লাইসেন্সিং ও নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করা হলে একদিকে যেমন এসব যানবাহনের ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি শৃঙ্খলা ফিরে আসবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আয়ের পরিধিও প্রসারিত হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিদ্যমান বিধিমালাগুলো সংশোধন ও সময়োপযোগী করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদের মতো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি অভিন্ন ও সমন্বিত লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করা হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশার নিবন্ধন ও চালকদের লাইসেন্স দেওয়ার আইনগত সুযোগ সৃষ্টির জন্য ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা ও তফসিল এরই মধ্যে সংশোধন করা হয়েছে। এছাড়া গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৫’ জারি করে এবং পরবর্তীতে ১৭ ডিসেম্বর তা আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বড় শহরগুলোসহ বিভিন্ন জনপদে তিন চাকার ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংখ্যা মাত্রাতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে এই যানগুলোর চলাচল এবং দক্ষ চালকের অভাবের কারণে প্রায়ই সড়কে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ দিন ধরে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় এসব যান পরিচালনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। আজকের এই সভায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান ই-রিকশা ব্যবস্থাপনা এবং সড়ক নিরাপত্তা সুরক্ষার উপায় নিয়ে সুনির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞ মতামত উপস্থাপন করেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সমন্বিত নীতিমালা কার্যকর হলে একদিকে যেমন লাখ লাখ চালক ও এই খাতের সঙ্গে জড়িত মানুষের কর্মসংস্থানের আইনি ভিত্তি মজবুত হবে, তেমনি অন্যদিকে ট্রাফিক ব্যবস্থার ওপর থেকে চাপ হ্রাস পাবে।
উক্ত আলোচনা সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।