ক্রীড়া প্রতিবেদক
পারিবারিক শোক কাটিয়ে মাঠের লড়াইয়ে ফিরেছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি। তবে ব্যক্তিগত শোক ও অনিশ্চয়তার দোলাচলের মধ্যে খেলা এই ম্যাচে ইন্টার মায়ামির জয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। লিগস কাপের গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মেক্সিকোর ক্লাব লিওনের কাছে ৩-২ গোলে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত করেছে মায়ামি। ফ্লোরিডায় আয়োজিত এই ম্যাচে হারের ফলে আসরের প্রথম ধাপ থেকেই ছিটকে গেল দলটি।
গত রোববার ৬৮ বছর বয়সে লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি পরলোকগমন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে মেসির এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বাবার মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন মেসি শেষকৃত্যে অংশ নিতে আর্জেন্টিনায় অবস্থান করছিলেন। বাবার মৃত্যু পরবর্তী সময়ে ফুটবল চালিয়ে যাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সংশয়ের কথা জানিয়েছিলেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার। তবে দলের সংকটময় মুহূর্তে দায়বদ্ধতা থেকে বিরতির পর বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
ম্যাচের শুরু থেকে কিছুটা ধীরলয়ে খেললেও ৪২ মিনিটে ড্যানিয়েল পিন্টারের গোলে লিড নেয় ইন্টার মায়ামি। প্রথমার্ধ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শেষ করে দলটি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে লিওন। ৫০ মিনিটে কলম্বিয়ান মিডফিল্ডার ড্যানিয়েল আরসিলার গোলে সমতায় ফেরে মেক্সিকান ক্লাবটি। এর মাত্র তিন মিনিট পরেই ইয়ানিক ব্রাইটের গোলে আবারও এগিয়ে যায় ইন্টার মায়ামি।
ম্যাচের ব্যবধান ২-১ হয়ে যাওয়ার পর লিওন আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায়। ফলস্বরূপ হুয়ান দোমিঙ্গেসের গোলে দ্রুতই ম্যাচে ২-২ সমতা ফেরায় লিওন। এরপর মায়ামির গোলরক্ষক রোকো রিওস নোভো বেশ কয়েকটি গোল বাঁচিয়ে দলকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তবে শেষরক্ষা হয়নি। ৮৩ মিনিটে ড্যানিয়েল আরসিলা তার ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লিওন। শুরুতে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হলেও ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার পর রেফারি গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান আর কমাতে পারেনি ইন্টার মায়ামি।
গ্রুপ পর্বের আগের ম্যাচে মন্তেরেইয়ের কাছে হেরে যাওয়ায় লিওনের বিপক্ষে জয়টি মায়ামির জন্য অনিবার্য ছিল। এই পরাজয়ের ফলে ২০২৩ সালে টুর্নামেন্টের পরিধি বড় হওয়ার পর প্রথমবারের মতো গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল দলটি। এর আগে ২০২৩ সালে মেসি মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর দলটি লিগস কাপের শিরোপা জিতেছিল। ২০২৫ সালেও মায়ামি ফাইনালে উঠেছিল, যদিও সেই ফাইনালে সিয়াটল সাউন্ডার্সের কাছে ৩-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় তাদের।
ব্যক্তিগত জীবনে গভীর শোকের আবহে এবং ফুটবল ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে মাঠে নামা লিওনেল মেসি এদিন গোল পাননি। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মায়ামির কৌশলগত সীমাবদ্ধতা এবং প্রতিপক্ষের কার্যকর পাল্টা আক্রমণই এই পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। এই বিদায়ে মায়ামির চলতি মৌসুমের শিরোপা জয়ের আশা কার্যত শেষ হয়ে গেল। দলের পরবর্তী কার্যক্রম এবং মেসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এখন সরগরম ফুটবল বিশ্ব। তবে শোকাভিভূত থাকা অবস্থায় এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নেমে মেসি আবারও তার পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।