অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার যে সরকারি রূপরেখা বা ভিশন নির্ধারণ করা হয়েছে, তার উচ্চ প্রশংসা করেছে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদল জানিয়েছে, বাংলাদেশের এই অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশটির বেসরকারি খাত অংশীদার হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে ইউএস চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এবং মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতা রাষ্ট্রদূত অতুল কেশপ এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ২৫টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০ জন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নির্বাহী অংশ নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনীতির চিত্র, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির নানা পদক্ষেপ তুলে ধরেন। বিশেষ করে শ্রমবাজারের উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো মার্কিন প্রতিনিধিদলের নজর কেড়েছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অতুল কেশপ বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সরকারের অভ্যর্থনায় মার্কিন প্রতিনিধিদল অত্যন্ত আনন্দিত। বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বৈদেশিক বিনিয়োগকারী দেশগুলোর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম এবং এই অবস্থান ধরে রাখতে পেরে মার্কিন কোম্পানিগুলো গর্বিত। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থনৈতিক ভিশন অত্যন্ত স্পষ্ট এবং ফলপ্রসূ। এ দেশের অদম্য জনশক্তি, মেধা ও বিশাল সম্ভাবনার পূর্ণ সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত হতে পারে বলে মার্কিন ব্যবসায়ীরা বিশ্বাস করেন।
রাষ্ট্রদূত অতুল কেশপ আরও উল্লেখ করেন, মার্কিন বেসরকারি খাত বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহের মাধ্যমে বাংলাদেশের এই অর্থনৈতিক যাত্রায় একটি শক্তিশালী অনুঘটকের ভূমিকা পালন করবে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ইতিবাচক বার্তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বাণিজ্য মহলে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। বিগত কয়েক দশক ধরে মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে নিয়মিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও দেশের সরকারের নীতিগত সহায়তার আওতায় এই অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় হবে বলে তারা আশাবাদী।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির মাইলফলক স্পর্শ করতে হলে বাংলাদেশকে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) প্রবাহ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে হবে। মার্কিন চেম্বার অব কমার্সের এই শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সফর এবং বিনিয়োগের আগ্রহ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। এর ফলে দেশের জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, উৎপাদন খাত এবং অবকাঠামো উন্নয়নে মার্কিন বিনিয়োগ আরও গতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।