রাজধানী ডেস্ক
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় চার্জগঠন শুনানির নতুন দিন ধার্য করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম শুনানি শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর শুনানির পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত দিনে এই মামলার আসামিদের মধ্যে আটজনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তবে চারজন আসামি অন্য মামলায় গ্রেপ্তার থাকায় তাদের এই মামলায় আদালতে উপস্থিত করা সম্ভব হয়নি। এই কারণে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তাদের আদালতে হাজির করার উদ্দেশ্যে প্রোডাকশন ওয়ারেন্টের (পিডব্লিউ) আবেদন করা হয়। আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে আসামিদের অনুপস্থিতির কারণ বিবেচনায় চার্জগঠন শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামী ১ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের একটি বড় অংশ বর্তমানে পলাতক রয়েছে বলে judiciales সূত্রে জানা গেছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুর থানাধীন চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন মো. হোসেন। তিনি পেশায় একজন ট্রাকচালক ছিলেন। ঘটনার দিন তিনি গাবতলীতে নিজের ট্রাক রেখে বাসায় ফেরার পথে চাঁদ উদ্যান এলাকায় পৌঁছালে আকস্মিক গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এই ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট নিহত ট্রাকচালক মো. হোসেনের মাতা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান আদালতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।
এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় অভিযুক্ত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা।
বর্তমানে অভিযুক্ত ৩৪ জনের মধ্যে জুনাইদ আহমেদ পলক, সাদেক খান, ফুরকান হোসেন এবং শাহজাহান হোসেনসহ বেশ কয়েকজন বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা এবং আদালতের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার মাধ্যমে মামলার বিচারকার্য নির্ধারিত সময়ে এগিয়ে নেওয়া হবে। জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাঢ়ের বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই মামলার বিচার কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।