বিনোদন ডেস্ক
অনলাইন ফ্যাশন পেজ থেকে শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ঢাকার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী তানজিন তিশা। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ১২ জুলাই আদালত তানজিন তিশাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারি করেছিলেন। নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে উপস্থিত হন। মামলার বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক আদালতের রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, অনলাইন ফ্যাশন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি সংগ্রহ করেছিলেন তানজিন তিশা। চুক্তি অনুযায়ী শাড়িটির প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি এর মূল্য পরিশোধ করার কথা ছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, শাড়িটি নেওয়ার পর তিনি ফ্যাশন পেজটির সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করেননি। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সুরাহা পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সূত্র ধরে বাদীপক্ষের আইনজীবীর মাধ্যমে তানজিন তিশার ঠিকানায় একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশের কোনো সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় এবং বকেয়া পরিশোধ না করায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে প্রাথমিক তদন্তের দায়িত্ব দেন গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি)। তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে, যেখানে মামলার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আদালত তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করেছিলেন।
এদিকে মামলার শুরু থেকেই এই অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে আসছেন তানজিন তিশা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট ফ্যাশন পেজ থেকে তাকে শাড়িটি উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। উপহার হিসেবে পাওয়ার কারণে সেটির মূল্য পরিশোধ করার কোনো চুক্তি বা বাধ্যবাধকতা ছিল না বলে তার দাবি। তবে বাদীপক্ষ এই দাবি নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক লেনদেন এবং প্রচারণার শর্তে আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ চুক্তির অংশ ছিল, যা রক্ষা করা হয়নি।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ই-কমার্স ও অনলাইনভিত্তিক ব্যবসার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের ক্রেতা-বিক্রেতা বা প্রচারণামূলক চুক্তি সংক্রান্ত আইনি জটিলতা ও বিরোধের সংখ্যা বাড়ছে। তারকাখ্যাতি সম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রমোশন বা উপহার সংক্রান্ত বিভ্রান্তি অনেক সময় আইনি সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। বর্তমান মামলাটিতে উভয়পক্ষের আইনগত লড়াই এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া। আদালতে জামিন পাওয়ার ফলে এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখন আনুষ্ঠানিক শুনানির দিকে এগোবে, যেখানে উভয়পক্ষ তাদের স্বপক্ষে প্রমাণ ও যুক্তি উপস্থাপন করবেন।