রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশের ত্রয়োবিংশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পক্ষ থেকে দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে এই প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারিত রয়েছে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল চারটা পর্যন্ত। এদিন সকাল দশটা থেকে বিকেল চারটার মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। ইতিপূর্বে গত ৬ আগস্ট প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই নতুন তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ সদস্যদের গোপন বা উন্মুক্ত ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে সংসদের প্রধান বিরোধী দল ও ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয়েছে। গতকাল বুধবার জোটের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। ফলে এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় সংসদ সদস্যরা এই নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর বিজয় প্রায় নিশ্চিত। তবে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকেও প্রার্থী দেওয়ায় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতা দৃশ্যমান হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে তাঁর ছেড়ে দেওয়া শূন্য পদগুলোতে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন এবং দল পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণের সৃষ্টি হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি পদটি শূন্য হয়। এরপর থেকেই সংবিধানের বিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে এবং বর্তমানে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।