অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণে ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন নির্ধারিত এই দাম কার্যকর হয়েছে।
বাজুস কর্তৃক নির্ধারিত নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে এখন থেকে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ কিনতে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা পরিশোধ করতে হবে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৯০ টাকা। পাশাপাশি ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
এর আগে গত ৮ আগস্ট দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। ওই সময় প্রতি ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ানোর ফলে দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হলো। স্থানীয় বুলিয়ন বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদাও স্বর্ণের এই মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হয়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামার কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রায়শই পরিবর্তিত হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে স্থানীয় বাজারে। তেজাবি স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণে স্থানীয় ডিলার ও কারিগরদেরও বেশি মূল্যে সোনা সংগ্রহ করতে হয়, যা চূড়ান্ত খুচরা মূল্যে প্রভাব ফেলে।
স্বর্ণের দাম লাগাতার বাড়ার ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দেশের মধ্যবিত্ত ও সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে স্বর্ণালংকার কেনা বা বিয়ের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানে স্বর্ণের ব্যবহার এক প্রকার অপরিহার্য হলেও বর্তমান উচ্চমূল্যের কারণে তা ক্রমেই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এর ফলে অনেক ক্রেতাই নতুন গহনা কেনার পরিবর্তে পুরোনো গহনা গলিয়ে নতুন ডিজাইনে রূপান্তর করার দিকে ঝুঁকছেন। এছাড়া খুচরা বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক স্বর্ণ ব্যবসার ওপর, যার ফলে অনেক বিক্রেতাও মন্দা পার করছেন। বাজুস জানিয়েছে, বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি এবং বিশ্ববাজারের গতির ওপর নজর রেখে পরবর্তী সময়ে স্বর্ণের দামের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।