রাজধানী ডেস্ক
শেরপুর জেলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. রুস্তম আলীকে এক নারীসহ পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) শেরপুর শহরের নবীনগর নয়াপাড়া এলাকার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের তৃতীয় তলায় তার সরকারি বাসভবন থেকে তাদের থানায় নেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ ও অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এই পদক্ষেপ নেয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে শেরপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের তৃতীয় তলায় সহকারী পরিচালকের বাসভবনে এক অপরিচিত নারীকে প্রবেশ করতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গভীর রাতে সরকারি কার্যালয়ের আবাসিক অংশে বহিরাগত নারীর উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে শেরপুর সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি যাচাই করে সহকারী পরিচালক মো. রুস্তম আলী ও ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে হেফাজতে নেয়।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস চত্বরে যায়। পরবর্তী তথ্য যাচাই ও আইনগত প্রক্রিয়া নিশ্চিতের জন্য সহকারী পরিচালক ও ওই নারীকে থানায় আনা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ওই নারী সহকারী পরিচালক মো. রুস্তম আলীর দূরসম্পর্কের শালী এবং তার বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর এলাকায়। তবে একটি সরকারি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে রাতবিতে সাধারণ নিয়মবহির্ভূতভাবে লোকজনের উপস্থিতি ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হওয়ার পর আইনানুগ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সরকারি দপ্তরের আবাসিক কার্যালয়ের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এই ঘটনাটি স্থানীয় মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ধরনের সরকারি প্রতিষ্ঠানে দাপ্তরিক নিয়ম ও নিরাপত্তা প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।