আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। সম্প্রতি জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কৌশলগত এই নৌপথের ওপর তেহরানের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এবং মার্কিন নৌবাহিনী এটি পুরোপুরি নিজেদের আয়ত্তে রেখেছে। এ সময় বর্তমান পরিস্থিতিকে অনুকূল উল্লেখ করে তিনি ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যেকোনো সমঝোতার বিষয়ে নিজের গভীর অবিশ্বাসের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তেহরান বারবার তার সঙ্গে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে তীব্র ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও সামরিক উত্তেজনা চলে আসছে। ওই সময় থেকে অনুমোদিত রুট ব্যতিরেকে অন্য কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আসছিল ইরান।
এর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের পথ পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে ওমানের মধ্যস্থতায় একটি বিকল্প রুট তৈরির জন্য ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দুই দেশ যৌথভাবে এই রুটটির নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বলে প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তবে ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এই সামুদ্রিক রুট সম্পূর্ণ খুলে দেওয়ার বিষয়টি ওয়াশিংটনের কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ এবং পূর্বের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসনও এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার পাশাপাশি তেহরানের ওপর থেকে চাপ অব্যাহত রেখেছে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও এর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে চলমান এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই কৌশলগত জলপথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই দীর্ঘমেয়াদি টানাপোড়েন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।