অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে আরও পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)। সংগঠনটি জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এই ধারা আরও প্রসারিত করার সুযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অ্যামচেম বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এই বিনিয়োগ প্রস্তাব ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল।
বৈঠকে অ্যামচেমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে সংগঠনটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে অ্যামচেমের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে দেশের মোট কর রাজস্বের ২০ শতাংশের বেশি জোগান দিচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে মার্কিন ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার নিদর্শন। সংগঠনটির মতে, বিদ্যমান বিনিয়োগের পাশাপাশি যেসব নতুন মার্কিন কোম্পানি বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার কথা বিবেচনা করছে, তাদের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে অতিরিক্ত পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব।
এই লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও সুসংহত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে অ্যামচেম। প্রতিনিধিদল সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন ব্যবসায়ীবান্ধব সংস্কার কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রদান, সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা চালুকরণ, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন, মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সহজীকরণ এবং কাস্টমস ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন উদ্যোগগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে দেশের অগ্রাধিকার খাতগুলোতে দীর্ঘমেয়াদী নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হয়।
ডিজিটাল অর্থনীতির টেকসই বিকাশের লক্ষ্যে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরে অ্যামচেম। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন এবং জাতীয় ডিজিটাল গভর্ন্যান্স কাঠামো প্রণয়নকে স্বাগত জানিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার প্রসার, সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি আরও জোরদার করার তাগিদ দেওয়া হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোকে একটি কৌশলগত সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে সংগঠনটি জানায়, এই উদ্যোগের ফলে প্রযুক্তি, ক্লাউড কম্পিউটিং, স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা এবং আর্থিক খাতের আধুনিকায়নে নতুন সহযোগিতার দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
দেশের প্রতিযোগিতাসক্ষমতা আরও বাড়াতে একটি ‘ডিজিটাল ইকোনমি অ্যাডভাইজরি ফোরাম’ বা টাস্কফোর্স এবং একটি ‘পাবলিক-প্রাইভেট কম্পিটিটিভনেস কাউন্সিল’ গঠনের প্রস্তাব দেয় অ্যামচেম। এসব প্ল্যাটফর্মে সরকার, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রস্তাব রাখা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতকালে অ্যামচেম ও বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ত্রিংশতম বা ৩০তম ইউএস ট্রেড শোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি নতুন অর্থনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এবং দেশে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত অনুকূল ও নিরাপদ পরিবেশ বিরাজ করছে। সরকার গৃহীত চলমান সংস্কার কার্যক্রমগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন। সম্ভাব্য সকল বিদেশি বিনিয়োগকারীকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।