বাংলাদেশ ডেস্ক
তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের কারসাজি, অনিয়ম বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি স্পষ্ট করে জানান, সঠিক নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত অপরিহার্য এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সঠিক পরিসংখ্যানের কোনো বিকল্প নেই।
আজ রাজধানীর একটি মিলনায়তনে নৌযান শুমারি ২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শুমারি সমন্বয়কারীদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গড়মিল বা অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত সকল শুমারি কর্মীকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকার তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের নৌপথকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সড়ক যোগাযোগের তুলনায় তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় পণ্য পরিবহনে নৌপথের গুরুত্ব অপরিসীম। নৌপথের সঠিক ও কার্যকর ব্যবহার এবং এর সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি সম্প্রসারণ করা সম্ভব। এর ফলে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে এবং সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
নৌযান শুমারি সফলভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পেশাদারিত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ওপর আস্থা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক ভূমিকার প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে নৌযান শুমারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) কারিগরি সহযোগিতায় আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী এই শুমারি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযানের প্রকৃত সংখ্যা, ধরন, মালিকানা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর শফিউল বারী এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক। বক্তারা দেশের নৌ খাতের সঠিক ডাটাবেজ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং শুমারি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ শুমারি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের শুমারি সমন্বয়ক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।