জাতীয় ডেস্ক
আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ পুরোপুরি কার্যকর থাকবে বলে স্পষ্ট করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি। মঙ্গলবার সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা জানান। চিফ হুইপ জানান, সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদটি সংশোধিত না হওয়ায় নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলার বাধ্যবাধকতা বলবৎ থাকবে এবং দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট প্রদান করলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে।
সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ওই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে জানানো হয়, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্যরা তাদের নির্ধারিত আসন ও বিভক্তি নম্বর অনুযায়ী এই ভোটা প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবেন। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও স্পিকারের ভোট প্রদানের দৃশ্য এবং ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট গণনা ও ফলাফল প্রস্তুতের পুরো কার্যক্রম গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা রাখা হবে। বর্তমান জাতীয় সংসদে মোট ৩৪৯ জন ভোটার বা সংসদ সদস্য রয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর দ্রুত গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন এবং সংসদ সচিবালয় প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে।
সরকারি দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর বিষয়ে চিফ হুইপ জানান, ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন এবং মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। অন্যদিকে, বিরোধী দলের অংশগ্রহণের বিষয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জানান, গণতান্ত্রিক ধারাকে অর্থবহ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থীর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কার্যকারিতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি বলেন, জুলাই সনদে ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত থাকলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটি অপরিবর্তিত ও কার্যকর থাকছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক সংস্কৃতি সুদৃঢ় করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ ছাড়া আলাদা কোনো সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রয়োজনীয়তা নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনী আনয়নের মাধ্যমেই দেশের আইনগত সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হবে। আসন্ন সংসদ অধিবেশনে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিল উত্থাপন করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।