শিক্ষা ডেস্ক
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে না পারা শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে পরীক্ষার ফলকে জীবনের শেষ বা চূড়ান্ত মূল্যায়ন হিসেবে না দেখার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, একটি মাত্র পরীক্ষার ফল শিক্ষার্থীর সামগ্রিক মেধা ও যোগ্যতার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন হতে পারে না। সম্প্রতি প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের পর শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার ফলাফলের দিনটি অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও মানসিক চাপের হতে পারে। চারপাশের পরিবেশ, সহপাঠীদের সাফল্য এবং পরিবারের প্রত্যাশার চাপ শিক্ষার্থীদের মনে গভীর হতাশার সৃষ্টি করে। তবে এই ফলই শিক্ষার্থীর জীবনের শেষ কথা নয়। এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট দিনের নির্দিষ্ট সময়ের পরীক্ষার খাতার মূল্যায়ন মাত্র। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, মেধা এবং ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কোনো সুনির্দিষ্ট নম্বর দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। তাই সাময়িক এই ব্যর্থতায় ভেঙে না পড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা অর্জন করতে হবে।
পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে না পারা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই মুহূর্তে শিক্ষার্থীরা তাদের পরিবারের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি মানসিক সমর্থন আশা করে। প্রতিবেশীদের কৌতূহল, আত্মীয়স্বজনের তুলনা কিংবা সহপাঠীদের নেতিবাচক আচরণ শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে। তাই ঘরের পরিবেশ যেন কোনোভাবেই বিচারালয় বা শাস্তির জায়গা না হয়ে ওঠে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সজাগ থাকতে হবে। সন্তানের যেকোনো পরিস্থিতিতে তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে পাশে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী কেন পিছিয়ে পড়ল বা অকৃতকার্য হলো, তার নেপথ্যের কারণ উদঘাটন এবং তা উত্তরণে শিক্ষকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের এই সাময়িক ব্যর্থতার দায় একা শিশুদের ওপর চাপানো যায় না, বরং এর নেপথ্যে শিক্ষাব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্টদেরও পর্যালোচনা করার সুযোগ রয়েছে। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দিয়ে তাদের ভুলত্রুটি সংশোধনে শিক্ষক সমাজকে আরও আন্তরিক হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসএসসি পরীক্ষা জীবনের একটি প্রাথমিক ধাপ মাত্র। এই ধাপে কাঙ্ক্ষিত ফল না আসাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মঘাতী বা নেতিবাচক মানসিকতা রোধে পরিবার ও সমাজকে মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা দিতে হবে। দেশের শিক্ষাবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষার ফলাফলের পর শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর এই বার্তা শিক্ষার্থীদের মানসিক শক্তি জোগাতে এবং অভিভাবকদের দায়িত্বশীল আচরণে উদ্বুদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।