রাজনীতি ডেস্ক
রাষ্ট্রপতি পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী কে হবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
চিফ হুইপ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া ও দলের সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ ফোরামে এবং স্থায়ী কমিটিতে নিবিড় আলোচনা চলছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আরও একাধিক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও বিধান অনুসরণ করেই দল যোগ্য এবং সর্বজন গ্রহণযোগ্য প্রার্থীর নাম যথাসময়ে জাতির সামনে প্রকাশ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে গত ৬ আগস্ট নির্বাচন কমিশন (ইসি) দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এই নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ১৩ আগস্ট প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন ধার্য করা হয়েছে। এরপর ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারিত রয়েছে। সংসদ সদস্যদের গোপন ব্যালটের মাধ্যমে এই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে একাধিক প্রার্থী না থাকলে বা সমঝোতার ভিত্তিতে একক প্রার্থী চূড়ান্ত হলে ভোটাভুটির প্রয়োজন হবে না।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বর্তমান সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও আইন বজায় রাখতে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতির রুটিন দায়িত্বে স্পিকার নিয়োজিত থাকায় তার অবর্তমানে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জাতীয় সংসদের স্পিকারের দৈনন্দিন দাপ্তরিক ও সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় থাকা বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এবং তাদের নীতিনির্ধারকরা এই পদের জন্য শেষ পর্যন্ত কার নাম চূড়ান্ত করেন, রাজনৈতিক মহলে এখন সেটিই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।