বাংলাদেশ ডেস্ক
সরকারের কার্যক্রমের ধারাবাহিক মূল্যায়নের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন বা রদবদল আসার সংভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, একটি গণতান্ত্রিক সরকার সবসময় জনগণের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কোথাও কোনো ঘাটতি বা সমস্যা দেখা দিলে প্রধানমন্ত্রী তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের ছয় মাসের অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। বর্তমান সরকারের কার্যকাল ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিসভায় কোনো পরিবর্তন আসছে কি-না, এমন কৌতূহলী প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এই মন্তব্য করেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট করে জানান, সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে ১৮০ দিন বা নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার মধ্যে মন্ত্রিসভায় রদবদলের কোনো পূর্বঘোষণা বা আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। মূলত সরকারের মেয়াদকাল ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার বিষয়টি এবং এ সম্পর্কিত নানামুখী আলোচনা প্রধানত গণমাধ্যম ও জনপরিসরে উঠে এসেছে। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনার সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক সুযোগ সব সময়ই খোলা থাকে, তবে এটি কোনো আকস্মিক বা হুট করে ঘটে যাওয়া প্রক্রিয়া নয়। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রমের মূল্যায়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে চলমান থাকবে। নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা যেমন ১৮০ দিন বা এক বছর পূর্তির ওপর নির্ভর না করে, বরং যেকোনো সময় মন্ত্রণালয়গুলোর কাজের গতিশীলতা ও সফলতার ওপর ভিত্তি করে এই মূল্যায়ন হতে পারে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এবং প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হয়। মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের পারফরম্যান্স বা কর্মদক্ষতা কীভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে, তা সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছে। যদি কোনো ক্ষেত্রে কাজের গতি শ্লথ হয় কিংবা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত না হয়, তবে সরকার প্রশাসনিক স্বার্থে এবং জনস্বার্থে যেকোনো সময় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পিছপা হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের মেয়াদের এই প্রাথমিক পর্যায়ে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সেবার মান আরও জনমুখী করার ক্ষেত্রে এই ধরনের নিয়মিত মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে মন্ত্রণালয়গুলোর কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং মাঠপর্যায়ে সরকারের নীতিগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত হয়। সরকারের কার্যক্রমের এই অগ্রগতি প্রকাশ এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার উদ্যোগ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।