1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
৭০ হাজারের বেশি শিক্ষক পাচ্ছেন অবসর ও কল্যাণ ভাতা, ছাড় হলো ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর: সালাহউদ্দিন আহমেদ ছাত্রদলের ভুয়া কমিটি সংক্রান্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বিএনপির সতর্কতা দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত অন্তত ৭, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে আঘাত ইউরোপ সফরে নগর বাউল জেমস: পর্তুগাল-ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে কনসার্ট ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সুনামির সতর্কতা জারি, উপকূলীয় এলাকা খালি করার নির্দেশ তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী কানাডার অন্টারিওতে অবৈধ অভিবাসীদের সামাজিক সহায়তা সুবিধা বাতিল গাংনীতে সরঞ্জাম ও নগদ টাকাসহ দুই অনলাইন জুয়াড়ি গ্রেপ্তার ঢাকাকে আধুনিক ও দুর্গন্ধমুক্ত নগরী গড়তে ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

রাজধানীর চারপাশের নদীদূষণ রোধে কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে
রাজধানী ডেস্ক
নদীদূষণ বর্তমান সময়ে একটি দুর্বিষহ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। নদীদূষণ রোধে কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি কেবল কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন নয়, বরং এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ওপরও বিশেষ জোর দিয়েছেন।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠকে বুড়িগঙ্গাসহ রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ রোধে দ্রুত একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
বৈঠকে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা এবং রাজধানীসংলগ্ন অন্যান্য নদীর বর্তমান পরিবেশগত অবস্থা, দূষণের প্রধান উৎসসমূহ, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উপায় নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদীতে নিঃসরণ, অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খালের নাব্যতা হ্রাস এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকেই নদীদূষণের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সভায় বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার বা ইটিপি স্থাপন ও তার কার্যকর পরিচালনা নিশ্চিত করা, শহরের খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং অবৈধ দখল ও দূষণকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ কঠোর আইনগত অভিযান পরিচালনা। পাশাপাশি, বিদ্যমান পরিবেশ আইনগুলোর যথাযথ প্রয়োগ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
নদী রক্ষা ও পরিবেশ উন্নয়নের এই কার্যক্রমে কেবল সরকারি সংস্থাসমূহ নয়, বরং পরিবেশবাদী সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা ওয়াসা, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা প্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোকে নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর চারপাশের নদীদূষণ রোধে একটি সমন্বিত ও সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা মাঠপর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কমিটি সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, ঢাকা নৌ এলাকার কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ-আল-মাকসুস এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ. বি. এম. আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা অব্যবস্থাপনা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর অস্তিত্ব আজ সংকটাপন্ন। এই অবস্থায় শীর্ষপর্যায়ের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে যদি ঘোষিত কর্মপরিকল্পনাগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে নদীগুলোর দূষণ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এটি কেবল রাজধানী ঢাকার পরিবেশগত উন্নয়নই নয়, বরং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026