বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট এই পদের জন্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে ওই দিন দুপুর দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে সংসদ সদস্যদের গোপন ভোটের মাধ্যমে এই নির্বাচন সম্পন্ন হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ইচ্ছুক প্রার্থীদের আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল চারটার মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। এরপর ১৬ আগস্ট জমা পড়া মনোনয়নপত্রগুলো বাছাই করা হবে এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নির্বাচনী কর্তার দায়িত্ব পালন করছেন।
এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে নির্বাচন ভবনে কমিশনের আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ ও তাহমিদা আহমদ উপস্থিত ছিলেন। সম্প্রতি সংসদ সচিবালয় থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনে এসে পৌঁছানোর পর ইসি এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে।
সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতা বা একক প্রার্থীর বিষয়টি বেশি প্রাধান্য পায়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, যদি নির্বাচনে কেবল একজন প্রার্থী বৈধভাবে মনোনীত হন এবং তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করেন, তবে ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই ও বৈধতা ঘোষণার পরই তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা যেতে পারে। তবে একাধিক প্রার্থী থাকলে নিয়মানুযায়ী ২০ আগস্ট নির্ধারিত সময়ে সংসদ ভবনে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তিত হওয়ার পর একাধিক প্রার্থী থাকার কারণে অতীতে ভোটাভুটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার নজির রয়েছে।