রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর চারপাশের নদীগুলোর দূষণ রোধে একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ রক্ষা-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের এক সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সভা শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোড় আবদুস সালাম সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজধানী ঢাকাকে ঘিরে থাকা বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদসহ সংলগ্ন নদীগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের বর্জ্য ও দূষণের কারণে চরম হুমকির মুখে পড়েছে। শিল্পকারখানার বর্জ্য, গৃহস্থালির বর্জ্য এবং পলিথিন ও প্লাস্টিকের অবাধ ব্যবহারের ফলে এই নদীগুলোর পানির মান প্রতিনিয়ত হ্রাস পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে নদীগুলোকে বাঁচিয়ে তুলতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের অংশ হিসেবে এই সভার আয়োজন করা হয়।
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের নদীদূষণ রোধে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই কর্মপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হবে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং দূষণের উৎসগুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
নদীদূষণ রোধে শিল্পকারখানার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, নদীর দূষণ যাতে কোনোভাবেই আর না বাড়ে, সেজন্য প্রতিটি শিল্পকারখানায় বাধ্যতামূলকভাবে ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হবে। ইটিপি ছাড়া কোনো কারখানার বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা যাবে না। সরকারের এই নির্দেশনা অমান্যকারী বা ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পরিবেশবিদ ও নদী গবেষকদের মতে, ঢাকার নদীগুলোর দূষণ মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর কারণে কেবল জলজ প্রাণীই নয়, বরং নগরবাসীর স্বাস্থ্য এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নদী রক্ষা করা না গেলে অদূর ভবিষ্যতে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের জনপদে পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে এবং মানুষ বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়বে। বর্তমান প্রশাসনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নদীবন্দী ঢাকার প্রাণপ্রবাহ কিছুটা হলেও ফিরে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাথমিকভাবে রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্র করে এই কার্যক্রম শুরু হলেও এর পরিধি আরও বিস্তৃত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক আরও জানান, কেবল ঢাকার নদীগুলোই নয়, বরং পর্যায়ক্রমে সারা দেশের নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করার সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে রাজধানী ও এর আশপাশের নদনদীগুলোর দূষণ রোধকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
নদীর তীর দখলমুক্ত করা এবং নিয়মিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পানির ধারণক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো, সিটি করপোরেশন এবং পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথভাবে এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করবে। নির্ধারিত এক মাসের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।