1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:১৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন দেশে ফেরলেন নিবন্ধিত টিআইএনধারীদের প্রায় ৬২ শতাংশই রিটার্ন জমা দেননি দেশের বাজারে ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরিতে বৃদ্ধি প্রায় ১০ হাজার টাকা গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে সরকার টিকতে পারবে না: নাহিদ ইসলাম দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি; ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি ৪৭১ জন সারাদেশে হাম সন্দেহে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জনের মৃত্যু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে স্বপ্নপূরণ হলো রংপুরের গঙ্গাচড়ার ক্ষুদে সংগীতশিল্পী অনুশ্রী রায়ের ঝিনাইদহে সাইবার ক্রাইম সেলের অভিযানে উদ্ধার হওয়া ১০৬টি মোবাইল ও অর্থ প্রকৃত মালিকদের হস্তান্তর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্পৃক্ত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার: ভারতের আসামের পুরনো ভিডিওকে বাংলাদেশে হামলার ঘটনা বলে প্রচার

নিবন্ধিত টিআইএনধারীদের প্রায় ৬২ শতাংশই রিটার্ন জমা দেননি

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে
অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দফায় দফায় সময়সীমা বাড়িয়েও কর-জালে থাকা বিশালসংখ্যক মানুষকে রিটার্ন দাখিলের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে দেশে মোট টিআইএনধারীর সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখ হলেও আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন মাত্র ৪৯ লাখ ৫৫ হাজার করদাতা। সে হিসাবে মোট নিবন্ধিত টিআইএনধারীর প্রায় ৬২ শতাংশই রিটার্ন দাখিল করা থেকে বিরত ছিলেন।
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রাথমিক বছরগুলোর কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রিটার্ন দাখিলের এই হার গত প্রায় এক দশকের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে টিআইএনধারীর সংখ্যা ১ কোটি ২৮ লাখ থাকলেও রিটার্ন জমা পড়েছিল প্রায় ৪৫ লাখ, যা ছিল মোট নিবন্ধিতদের প্রায় ৩৮ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে টিআইএনধারীর সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও সামগ্রিক কর-অনুগত্যে কাঙ্ক্ষিত কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, করপোরেট খাতের চিত্রও প্রায় একই রকম। দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার করপোরেট টিআইএনধারী থাকলেও বিদায়ী অর্থবছরে রিটার্ন জমা দিয়েছে মাত্র ৪২ হাজার প্রতিষ্ঠান। এর আগের অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ৩৯ হাজার ৬৫৯।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, সঞ্চয়পত্র ক্রয় কিংবা জমি রেজিস্ট্রি করার মতো বিভিন্ন জরুরি সেবা পাওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে টিআইএন গ্রহণের বাধ্যবাধকতা থাকায় অনেকেই প্রয়োজনের খাতিরে টিআইএন নেন। তবে তাদের বার্ষিক আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকায় তারা রিটার্ন দাখিল করা প্রয়োজন মনে করেন না। এছাড়া অনলাইন বা অফলাইন রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া অনেকের কাছে জটিল মনে হওয়া, সঠিক নির্দেশনার অভাব এবং কর ব্যবস্থার প্রতি আস্থার ঘাটতিও এর অন্যতম প্রধান কারণ।
কর গবেষক স্নেহাশীষ বড়ুয়ার মতে, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, ব্যাংক ঋণ গ্রহণ, ঋণপত্র (এলসি) খোলা কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ গ্রহণের ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র বা রিটার্ন জমার স্লিপ বাধ্যতামূলক করার বিধান কঠোরভাবে কার্যকর করা হলে করদাতাদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে ব্যক্তিগত ও করপোরেট পর্যায়ে রিটার্ন দাখিলের হার আশাব্যঞ্জক না হলেও, সার্বিক আয়কর আদায়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর আদায় হয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের ১ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা থেকে ১৩.০২ শতাংশ বেশি। একইভাবে মোট রাজস্ব আদায়েও প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। গত অর্থবছরে এনবিআর মোট ৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। তবে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় দিনশেষে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা।
বিদায়ী অর্থবছরে আমদানি ও রপ্তানি শুল্ক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ১১৯ কোটি টাকা আদায় হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১১.৯০ শতাংশ বেশি। এছাড়া রাজস্ব আহরণের সবচেয়ে বড় উৎস মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট খাত থেকে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা, যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১.৮০ শতাংশ।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের পক্ষ থেকে এনবিআরকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে কেবল টিআইএনধারীর সংখ্যা বাড়ালেই চলবে না, বরং স্বপ্রণোদিত হয়ে রিটার্ন দাখিলে করদাতাদের উদ্বুদ্ধ করতে কর প্রক্রিয়া আরও সহজীকরণ এবং আইনগত বাধ্যবাধকতা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026