ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফুটবলের অর্থনৈতিক মুনাফার অংশ বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’ থেকে চূড়ান্তভাবে সরে এসেছে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা। এর মাধ্যমে সংস্থাটির বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তার পদত্যাগের দাবি ও অভিশংসনের ঝুঁকি সাময়িক এড়াতে সক্ষম হয়েছেন। একই সঙ্গে মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় ফিফার ব্যবস্থাপনা বোর্ড ও শীর্ষ কর্মকর্তারা সভাপতি ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা নিশ্চিত করেছে, এফএফই সংক্রান্ত বিতর্কিত প্রস্তাবটি সম্পূর্ণভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ফিফার বাণিজ্যিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোকে লভ্যাংশের অংশ দেওয়ার এই উদ্যোগ নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফিফা কাউন্সিল ও সদস্য দেশগুলোর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে নিজেদের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সাথে সংস্থাটির পরিচালনা প্রক্রিয়ায় ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মরক্কোয় আয়োজিত শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওই বিশেষ বৈঠকে ফিফার মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রম এবং ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে স্বীকার করা হয় যে, উদ্ভূত পরিস্থিতি ভিন্ন ও দায়িত্বশীল উপায়ে পরিচালনা করা উচিত ছিল। ইতিপূর্বে মহাসচিব গ্রাফস্ট্রম কর্মীদের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক বার্তায় পুরো ঘটনাটিকে দুঃখজনক ও নিন্দনীয় বলে আখ্যা দিয়ে সেই পরিকল্পনা থেকে নিজের দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন। তবে বৈশ্বিক সভার পর ইনফান্তিনো ও গ্রাফস্ট্রম একে অপরের প্রতি আস্থা ও সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা নির্বাচনে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের জন্য সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা আগেই দিয়ে রেখেছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে এই আর্থিক কাঠামোর প্রস্তাব উন্মোচনের পর থেকে তাঁর প্রশাসনিক স্থায়িত্ব ও অবস্থান নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল। প্রশাসনিক এই পিছু হটার মাধ্যমে ইনফান্তিনো আপাতত নিজের পদ রক্ষা করতে পারলেও বৈশ্বিক ফুটবল পরিচালনায় তাঁর গৃহীত নীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, বিশ্ব ফুটবলের সাম্প্রতিক এই সংকটকে কেন্দ্র করে ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর স্বার্থরক্ষা সংগঠন ‘ইউরোপিয়ান লিগস’ ফিফার সার্বিক শাসনব্যবস্থা ও পরিচালন সংস্কৃতিতে নীতিগত সংস্কারের দাবি তুলেছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা এবং সিরি আ-এর মতো প্রভাবশালী লিগগুলোর সমন্বয়ে গঠিত এই সংস্থাটি জানিয়েছে, বাতিল হওয়া এফএফই প্রস্তাবটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল এবং এটি ফিফার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার গলদ উন্মোচিত করেছে।
ইউরোপিয়ান লিগসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সমস্ত অংশীজন বা স্টেকহোল্ডারদের আনুষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের যেকোনো পরিকল্পনার বিরোধিতা করে সংগঠনটি জানিয়েছে, ফিফার অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা ও শাসনব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলেই নতুন কোনো প্রতিযোগিতা চালু বা প্রতিযোগিতার আকার সম্প্রসারণের প্রতিটি উদ্যোগকে তারা প্রতিরোধ করবে।