ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্বকাপ বিরতির পর ক্লাব ফুটবলে ফিরে নিজের টানা দ্বিতীয় ম্যাচেই নতুন কীর্তি গড়েছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন এই মহাতারকার রেকর্ড গড়া জোড়া গোলের ওপর ভর করে আতলেতিকো দে সান লুইসকে ৪-২ ব্যবধানে পরাজিত করেছে ইন্টার মিয়ামি। এই জয়ের মাধ্যমে মার্কিন ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট ‘লিগস কাপ’-এর ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনটি নিজের করে নিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ভোরে ফ্লোরিডার মিয়ামিতে অবস্থিত ইন্টার মিয়ামির ঘরের মাঠ ‘নু স্টেডিয়ামে’ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। স্বাগতিক দর্শকদের সামনে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় মিয়ামি। খেলার প্রথমার্ধেই নিজেদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করে নেয় দলটি। মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের চমৎকার সমন্বয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে শুরু থেকেই চাপে রাখে তারা। বিরতিতে যাওয়ার আগেই ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ নিজেদের হাতে নেয় মেসি-ক্যাসেমিরোদের দল।
খেলার দ্বিতীয়ার্ধে সান লুইস ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও মিয়ামির আক্রমণের ধার কমেনি। তবে দ্বিতীয় অর্ধে খেলা চলাকালে ২৫ মিনিটের পর প্রবল বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে ম্যাচটি বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হন রেফারি। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বেশ কিছুক্ষণ খেলা স্থগিত থাকে। বৃষ্টির তাণ্ডব থামার পর মাঠ খেলার উপযোগী হলে উভয় দল পুনরায় মাঠে নামে। স্থগিত হওয়ার সময় ম্যাচের স্কোরলাইন ছিল ৪-২। বিরতির পর উভয় দলই গোল করার বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও খেলার শেষভাগ পর্যন্ত স্কোরে আর কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে ৪-২ ব্যবধানের এক দুর্দান্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মিয়ামি।
ম্যাচে বিজয়ী দল ইন্টার মিয়ামির হয়ে স্বাগতিকদের পক্ষে লিওনেল মেসি একাই দুটি গোল করার কৃতিত্ব দেখান। তার দুর্দান্ত ফিনিশিং ও মাঠের নেতৃত্ব দলের জয়কে সহজতর করে তোলে। দলের বাকি দুটি গোল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তেলাসকো সেগোভিয়া ও মিকায়েল দোস সান্তোস। সান লুইসের রক্ষণভাগের ভুলগুলোকে কাজে লাগিয়ে এই দুই ফুটবলার মিয়ামির পক্ষে একটি করে গোল নথিভুক্ত করেন। প্রতিপক্ষ আতলেতিকো দে সান লুইস ব্যবধান কমানোর দুটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেও মিয়ামির শক্তিশালী মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের সামনে শেষ পর্যন্ত পরাস্ত হয়।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে লিওনেল মেসি কেবল নিজের ক্লাবকেই টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপে সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে যাননি, বরং লিগস কাপের ইতিহাসে নিজের নামকে স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখলেন। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল সংগ্রাহক হওয়ার এই বিরল রেকর্ড মার্কিন ফুটবলে তার প্রভাব ও ধারাবাহিক শ্রেষ্ঠত্বকে আবারও প্রমাণ করল। বিশ্বজয়ের ট্রফি স্পর্শ করার পরও ক্লাব ফুটবলে মেসির এমন নিরবচ্ছিন্ন পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মেসির এই ফর্ম অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে মিয়ামির শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।