অপরাধ ডেস্ক
রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ছিনতাই, ডাকাতি ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে গুলশান ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৩৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) দিনভর পরিচালিত এসব অভিযানে থানা পুলিশের একাধিক টিম অংশ নেয়।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ডিএমপির নিয়মিত অপরাধবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে যাত্রাবাড়ী ও গুলশান থানা পুলিশ নিজ নিজ এখতিয়ারভুক্ত অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে একযোগে নজরদারি বৃদ্ধি ও অভিযান শুরু করে। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে ২৩ জন এবং গুলশান থানা পুলিশ পৃথক স্থান থেকে ১৪ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তী সময়ে রোববার (২ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সার্বিক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, যাত্রাবাড়ী এলাকায় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একাধিক নিয়মিত মামলার আসামি, চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তি এবং আদালত কর্তৃক ওয়ারেন্ট বা পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা রয়েছেন। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— মো. খোকন (৫২), মো. আলী হাসান (৩১), ইসমাইল ওরফে কালু (২২), মো. সাব্বির হোসেন (২০), মো. ইউসুফ গাজী (৩০), মো. সাইফুল উদ্দিন (৪২), মো. শরীফ, মো. রাকিব হাসান বাবু (২৩), মো. জাবেদ (২৯), মো. জাকির (৩২), শাহিন বাবু (২৭), মিজান মৃধা (৩০), মো. সিরাজ উদ্দিন হিমেল (২৬), জোমা বেগম (২৫), ইয়াসিন আরাফাত রাফি (২১), শাহিন মিয়া (৫১), ইয়াছিন (২০), আরিফ (২৬), নাসির (৩৮), হাসান উল্লাহ কালু (৪০), মো. পলক (২২), মো. সবুজ (৩০) ও মো. সাদ্দাম (৩৪)।
অন্যদিকে গুলশান থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ১৪ জন হলেন— পলাশ চৌধুরী (৪৮), জাহিদ শেখ (৪০), মো. পারভেজ (২৪), মো. শরিফ (৩৬), জসীম উদ্দিন (৪৫), মো. সিয়াম (২০), মো. আমিনুল ইসলাম (৩৮), মো. তোফাজ্জল (২০), মো. হানিফ (৩৬), মো. সামিউল (২৩), ইউনুস আলী (৩৫), মো. ওমর ফারুক (৩৬), মো. কামাল হাওলাদার (৩২) ও মো. জাফর আহম্মেদ (২৮)।
ডিএমপির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ঢাকা শহরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল নিরাপদ রাখতে প্রতিটি থানা এলাকায় নিয়মিত টহল ও ঝটিকা অভিযান জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশি তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করা হবে এবং এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে গুলশান ও যাত্রাবাড়ী অঞ্চলে অপরাধীদের তৎপরতা রোধে পুলিশের এই সমন্বিত পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নিয়মিত তদারকি ও অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে নগরীর সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।