নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কার্যক্রম আজ রবিবার (১৬ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে শুরু হচ্ছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় জানিয়েছে, এ কার্যক্রমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও সমমনা দলগুলোর মনোনীত প্রার্থী এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর দাখিল করা মোট তিনটি মনোনয়নপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে মোট দুইজন প্রার্থীর অনুকূলে তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে একটি এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন এই নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে আইন অনুযায়ী আজ সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্রগুলোর বৈধতা যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। যাচাই-বাছাইয়ের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, মনোনয়নপত্র যাচাই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ত্রুটি বা অসংগতি রয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রস্তাবক ও সমর্থকদের তথ্য এবং সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষরের যথার্থতা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের একজন দায়িত্বশীল প্রতিনিধি এই কার্যক্রমে উপস্থিত থাকবেন। সংসদ সচিবালয়ের প্রতিনিধি প্রার্থীদের পক্ষে দেওয়া প্রস্তাবক ও সমর্থক সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখার কাজে কমিশনকে সরাসরি সহায়তা প্রদান করবেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত সময়সূচি মোতাবেক ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় নির্ধারিত ছিল। ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। তফসিলে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় রাখা হয়েছে আগামী ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এরপর আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর বিধান অনুসারে জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান অনুযায়ী, কোনো একক প্রার্থীর বৈধ মনোনয়নপত্র থাকলে এবং তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষিত হন। তবে একাধিক বৈধ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বহাল থাকলে নির্ধারিত দিনে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণের দিন সংসদ সদস্যদের নির্ধারিত আসনে বসে ভোট দেওয়ার এবং স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কর্মপরিকল্পনায় রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এই সাংবিধানিক দায়িত্ব সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আজকের যাচাই-বাছাই পর্ব সম্পন্ন হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমীকরণ এবং সম্ভাব্য ভোটাভুটির আনুষ্ঠানিক রূপরেখা স্পষ্ট হয়ে উঠবে। নির্বাচন ভবনে আজ প্রার্থীদের পক্ষে তাদের ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ও আইনজীবীদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।