আইন আদালত ডেস্ক
রাজধানীর উত্তরায় র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে বিদ্যমান গোপন বন্দিশালা (যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত) পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। পরিদর্শন শেষে তিনি জানিয়েছেন, বিগত সরকারের আমলে এই ধরনের গোপন বন্দিশালা ব্যবহারের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক নিপীড়ন চালানো হয়েছিল। এসব গুম এবং আলামত নষ্টের প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে বিচার সুনিশ্চিত করা হবে।
শনিবার (১ আগস্ট) উত্তরাস্থ র্যাব-১ কার্যালয়ে টিএফআই সেল পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, গোপন বন্দিশালার অস্তিত্ব কোনো কাল্পনিক বিষয় নয়, বরং এটি একটি বাস্তব ও নৃশংস সত্য। বিগত শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী করার হাতিয়ার হিসেবে এই ধরনের কেন্দ্রগুলো ব্যবহার করেছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ভার বহন করতে হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
পরিদর্শনকালে চিফ প্রসিকিউটর গুমের শিকার ব্যক্তিদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বিভিন্ন সময়ে গুম ও নিখোঁজ হওয়া প্রায় আড়াই শতাধিক ব্যক্তির সন্ধান এখনও মেলেনি। তারা কোথায়, কী অবস্থায় আছেন বা তাদের পরিণতি কী হয়েছে—সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী এবং বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সাজেদুল ইসলাম সুমনের মতো একাধিক সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব রয়েছেন।
তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে চিফ প্রসিকিউটর জানান, টিএফআই সেলে অতীতে অনেককে বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছিল। উদাহরণ হিসেবে তিনি ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশিম আরমানের কথা উল্লেখ করেন, যাকে দীর্ঘদিন এই স্থানে বন্দী রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিদর্শনের সময় ভুক্তভোগীর দেওয়া বিবরণ ও বর্ণনার সাথে মিলিয়ে নির্দিষ্ট কক্ষটি শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করা হয়। এছাড়া বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকেও একসময় র্যাব-১-এর এই গোপন বন্দিশালার একটি কক্ষে আটক রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে তাকে ভারতে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান।
তদন্তের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করেন যে, এ ধরনের ঘটনার পেছনে মূল পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা এবং প্রত্যক্ষ বাস্তবায়কদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। গোপন বন্দিশালার তথ্য গোপন করতে বা বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে যারা আলামত বিনষ্ট করেছেন, দেয়াল তুলে গোপন কক্ষ ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন কিংবা অন্য কোনোভাবে প্রমাণ গোপনের সাথে যুক্ত থেকেছেন—তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।