1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
অভিনেত্রী রিধির মরদেহ উদ্ধার: আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় প্রেমিক গ্রেপ্তার উপসাগরীয় ছয় দেশ ও যুদ্ধজাহাজ পরিদর্শন করলেন সেন্টকম প্রধান ব্র্যাড কুপার মেসির পেনাল্টি মিসের দিনে ন্যাশভিলের কাছে বড় ব্যবধানে হারল ইন্টার মায়ামি ঝিনাইদহে উপজেলা পরিষদের পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রের মৃত্যু যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রস্তাব নিয়ে কায়রোতে মিসর ও হামাসের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু রাঙামাটিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপ উল্টে চারজনের মৃত্যু, আহত দুই ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই আজ ইরানি তিন পাইলটকে আটকের দাবি নাকচ করল কাতার ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ৪৭, বহু হতাহতের আশঙ্কা দিনব্যাপী সরকারি সফরে কিশোরগঞ্জে একাধিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর দক্ষিণখানে জানালার গ্রিল কেটে বাসায় ঢুকে নারী চিকিৎসককে শ্বাসরোধে হত্যা ও লুটপাট

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৫ বার দেখা হয়েছে

অপরাধ ডেস্ক

রাজধানীর দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদ এলাকায় দিনের আলোয় একটি আবাসিক ভবনের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে সারা রোকসানা পিনু নামে এক নারী চিকিৎসককে (ডেন্টাল টেকনোলজিস্ট) শ্বাসরোধে হত্যা করেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা। গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলের দিকে এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, শ্বাসরোধে হত্যার পর দুর্বৃত্তরা বাসায় থাকা বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট করে চম্পট দিয়েছে। জনবহুল আবাসিক এলাকায় দিনদুপুরে এমন রোমহর্ষক ও দুঃসাহসিক হত্যাকাণ্ডের খবরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও চরম নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার খবর পেয়ে স্থান পরিদর্শন করে ছায়া তদন্ত ও আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।

পুলিশ ও নিহত নারীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত সারা রোকসানা পিনু কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ভূঁইয়া বাড়ি এলাকার শিক্ষক মজিবুল হক বাচ্চুর কন্যা। তিনি পেশায় একজন ডেন্টাল টেকনোলজিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং পরিবারসহ ফায়দাবাদের ওই বাসায় বসবাস করতেন। ঘটনার সময় তিনি বাসায় একাই অবস্থান করছিলেন। প্রতিদিনের নিয়মিত সময়সূচি অনুযায়ী তাঁর স্বামী যথারীতি অফিসে গিয়েছিলেন এবং তাঁদের ছোট মেয়ে স্কুলে ছিল।

দক্ষিণখান থানা ও নিহতের স্বজনদের বর্ণনায় উঠে এসেছে মর্মান্তিক ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ। সাধারণত প্রতিদিন স্কুল ছুটি হওয়ার পর নিহত সারা রোকসানা নিজেই স্কুলে গিয়ে মেয়েকে বাসায় নিয়ে আসতেন। কিন্তু ঘটনার দিন নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও তিনি স্কুলে না পৌঁছানোয় শিশুটি বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর একা একাই বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বাসায় ফিরে ড্রয়িং রুমে প্রবেশ করতেই শিশুটি তার মায়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে। এমন আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত শিশুটি দ্রুত পুনরায় স্কুলে ছুটে যায় এবং শ্রেণিশিক্ষককে বিষয়টি অবহিত করে। পরিস্থিতি অনুধাবন করে শিক্ষক তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটির বাবাকে ফোনে ঘটনার বিষয়ে জানান। তথ্য পাওয়ার পরপরই নিহতের স্বামী ও স্বজনরা বাসায় পৌঁছান এবং পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে দক্ষিণখান থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিব জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রস্তুতের সময় বাসাবাড়ির বিভিন্ন কক্ষের আসবাবপত্র এবং ড্রয়ার তছনছ ও এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পায়। তদন্তে স্পষ্ট হয় যে, ঘরের জানালার একটি অংশের গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করেছিল অপরাধীরা। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ জানান, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে বিকেল ৩টার পর যেকোনো সময় দুর্বৃত্তরা গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে। তারা বালিশচাপা দিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং পরবর্তীতে পুরো ঘরে তল্লাশি চালিয়ে মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যায়।

নিহত চিকিৎসকের ছেলে জানান, ঘটনার সময় তিনি বাসায় উপস্থিত ছিলেন না। পরবর্তীতে খবর পেয়ে বাসায় এসে গেস্ট রুমে মায়ের নিথর মরদেহ দেখতে পান। তিনি অভিযোগ করেন, মূলত স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢোকে। অপরাধীরা যাওয়ার সময় ব্যাংকের কাগজপত্র, নগদ অর্থ ও গহনা লুট করে নিয়ে গেলেও ঘরের কিছু আলামত ও ছড়ানো জিনিসপত্র আগের অবস্থায় রেখে দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ফরেনসিক দল সম্পূর্ণ আলামত সংগ্রহ ও গোয়েন্দা তদন্ত শেষ না করা পর্যন্ত পরিবারটি সেগুলোতে হাত দেয়নি।

দিনদুপুরে এ ধরনের নৃশংস অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় ফায়দাবাদ এলাকার অধিবাসীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় কোনো বাধা ছাড়াই গ্রিল কেটে ঢুকে এমন বর্বরোচিত ঘটনা ঘটায় নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় অধিবাসীদের দাবি, অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে চিহ্নিত করে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে হবে।

পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন, লুটে যাওয়া মালামালের সঠিক হিসাব নির্ণয় এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে সমন্বিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আলামত পরীক্ষার পাশাপাশি আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026