রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পরিচালিত অপরাধ ও মাদকবিরোধী নিয়মিত যৌথ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ চোরাই মালামাল। এসব অভিযানে অপহৃত এক ব্যক্তিকেও উদ্ধার করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে পুলিশ বাদী হয়ে ও ভুক্তভোগীদের সহায়তায় ৩০টি মামলা দায়ের করেছে।
বুধবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী অভিযানের মূল তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন অপরাধ বিভাগ এবং গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে রাজধানীর আটটি বিভাগজুড়ে এই বিশেষ ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে।
ডিএমপি সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ডিএমপির বিভাগভিত্তিক অপরাধ প্রতিরোধ অভিযানে সর্বাধিক সংখ্যক আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে মিরপুর এলাকায়। সেখান থেকে সর্বমোট ১২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জিত হয় মতিঝিল বিভাগে, যেখানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৮২ জনকে।
অন্যান্য অপরাধ বিভাগের মধ্যে তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৭৪ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৬৯ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৪১ জন এবং গুলশান বিভাগ থেকে ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া লালবাগ বিভাগে ৩৫ জন এবং রমনা বিভাগে ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) পৃথক অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
অভিযানকালে গ্রেপ্তারদের হেফাজত থেকে বড় অঙ্কের চোরাই ও অবৈধ মালামাল জব্দ করেছে পুলিশ। জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ১০৭ কেজি গাজা এবং ২৫ পিস ইয়াবা। চুরি ও ছিনতাইবিরোধী তৎপরতার অংশ হিসেবে জব্দ করা হয়েছে ৮ ভরি ১৩ আনা ৫ রতি ওজনের বিভিন্ন স্বর্ণালংকার, ৯টি মোবাইল ফোন এবং ২টি পুরানো মোটরসাইকেল। এছাড়া অভিযানের সময় অপহরণের শিকার হওয়া এক ভিকটিমকে সফলভাবে উদ্ধার করে স্বজনদের নিকট হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা মহানগরীতে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক কেনাবেচা এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নগরবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। উদ্ধারকৃত চোরাই মালামাল আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত মালিকদের নিকট হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের এক বার্তায় জানানো হয়েছে, শহরের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে, অপরাধীদের তৎপরতা দমন করতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির এই ধরনের অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্যকারী ও সামাজিক অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে প্রশাসন।