সারাদেশ ডেস্ক
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পূর্বঘোষিত কেন্দ্রঘোষিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মৌলভীবাজার জেলায় নির্ধারিত পদযাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একই দিনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটির নেতৃত্ব।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের পদযাত্রার রোডম্যাপ অনুযায়ী মৌলভীবাজার জেলায় দুটি পৃথক স্থানে এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে কৌশলগত কারণে ওই কর্মসূচি স্থগিত রেখে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে এনসিপির দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
নতুন ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, হবিগঞ্জ শহরের মূল অংশে এই প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচিতে দলটির জাতীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা সশরীরে উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দেবেন। সমাবেশের সমন্বয়ক ও দায়িত্বশীলদের দেয়া তথ্যানুযায়ী, এতে উপস্থিত থাকবেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি এবং দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি।
এছাড়া উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা দুই মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ এমপিও এই প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেবেন। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি এবং সাম্প্রতিক ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ সমর্থকদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিলে কেন্দ্র থেকে আরও অংশ নেবেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি এবং সারোয়ার তুষার সহ সংগঠনের একাধিক প্রথম সারির কেন্দ্রীয় নেতা। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন ইউনিট থেকে দলীয় কর্মীদের কর্মসূচিতে যোগ দেয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরাঞ্চলের সাংগঠনিক কর্মসূচির মধ্যে এ ধরনের আকস্মিক পরিবর্তন এবং বড় ধরনের নেতাদের একই স্থানে উপস্থিতি মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে এক রাজনৈতিক দলের সাথে অপর রাজনৈতিক দলের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া ও সংঘর্ষমূলক অবস্থানকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে। সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বজায় রাখতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।