রাজনীতি ডেস্ক
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বুধবার (২৯ জুলাই) বেলা ১১টায় এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হয়। সাবেক সংসদ সদস্য ও দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের এই প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়।
বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ এবং নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বৈঠকে জাতীয় ও স্থানীয় রাজনীতি এবং নির্বাচন সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি নীতিগত ও প্রশাসনিক বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক সূত্র জানায়, প্রতিনিধি দলের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন ও বিধিমালা সংশোধন। তৃণমূল পর্যায়ের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিরা বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেন। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক কার্যক্রমে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনে ‘বিএনপিপন্থী’ অতিরিক্ত সচিব নিয়োগের বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং প্রশাসনে ভারসাম্য ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এছাড়া সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়েও কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। তার এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু এবং নির্বাচন সংক্রান্ত আইনি জটিলতা বা বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে ইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশনের কাছে তাদের উত্থাপিত বিষয়গুলোর দ্রুত সমাধানের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের সার্বিক কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের এ ধরনের ধারাবাহিক আলোচনা আগামী দিনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ সার্বিক নির্বাচন ব্যবস্থায় সুশাসন ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের নির্বাচনে আইন ও বিধিমালার আধুনিকায়ন বাস্তবায়িত হলে প্রার্থী ও ভোটারদের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দলের প্রস্তাব ও দাবিসমূহ গুরুত্বসহকারে শোনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কমিশন জানায়, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে তারা আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।