আইন আদালত ডেস্ক
বাংলাদেশ পুলিশের বার্ষিক মর্যাদাপূর্ণ পদকের জন্য ১০৫ জন কর্মকর্তা ও সদস্যের একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। বিগত সরকারের আমলে পদকপ্রাপ্তি ও নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে প্রাথমিক তালিকা থেকে চারজন কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে এই নতুন তালিকা তৈরি করা হয়। গত প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সরকারের পক্ষ থেকে গেজেট বা সরকারি আদেশ (জিও) জারির লক্ষ্যে তালিকাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চূড়ান্ত পদক বিতরণ অনুষ্ঠানটি প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। অনুষ্ঠান আয়োজনের সার্বিক খসড়া ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হলেও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে চূড়ান্ত সময় ও সম্মতি মেলার পরই দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হলেই আয়োজনের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
প্রাথমিক খসড়া থেকে বাদ পড়া চার কর্মকর্তা হলেন— ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার সরওয়ার হোসেন, ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক প্রধান শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১) মো. আসাদুজ্জামান এবং ডিএমপির বোম ডিসপোজাল টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মুর্তজা। পুলিশ পদক বিতরণ সংক্রান্ত পর্যালোচনা কমিটি ও সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অনুসন্ধানে উঠে আসে যে, বাদ পড়া চারজনের মধ্যে এসআই গোলাম মুর্তজা ছাড়া বাকি তিনজনই বিগত সরকারের মেয়াদে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন পদক পেয়েছিলেন। এ তথ্য প্রকাশের পর পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পর্যায়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশ পুলিশ প্রতিবছর নিজেদের পেশাগত কাজের মূল্যায়ন হিসেবে চারটি সুনির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে পদক প্রদান করে থাকে। এগুলো হলো— বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম), বাংলাদেশ পুলিশ পদক-সেবা (বিপিএম-সেবা) এবং রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক-সেবা (পিপিএম-সেবা)। সাধারণত অসামান্য সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ, পেশাগত অনন্য দক্ষতা, গুরুত্বপূর্ণ মামলা রহস্য উদঘাটন এবং জনসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। তবে বিগত কয়েক বছর ধরে পদকপ্রাপ্তদের নাম মনোনয়ন ও চূড়ান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
চলতি বছরও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী গত ১০ মে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে চার দিনব্যাপী ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী উদ্বোধনী দিনেই মনোনীতদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিপিএম ও পিপিএম পদক তুলে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পদক প্রার্থীদের তালিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষ তৈরি হওয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধনের মাত্র আগের রাতে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানটি স্থগিত করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী সময়ে বিতর্কমুক্ত রাখতে তালিকা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে পদক প্রদান সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি এবং পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, পেশাগত স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থেই পুরো তালিকাটি পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। পূর্বে প্রস্তাবিত তালিকায় ১০৯ জন কর্মকর্তা ও সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। সার্বিক যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার পর বিতর্কিত চারজনকে বাদ দিয়ে ১০৫ জনের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর খুব শীঘ্রই পদক প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে মনোনীতদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।