বাংলাদেশ ডেস্ক
কিশোরগঞ্জ: জাতীয় মৎস্যপক্ষ-২০২৬–এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিতে কিশোরগঞ্জ সফরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যানবাড়ি ঘাট এলাকায় এসে পৌঁছান। এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের জনগণ তাঁকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
দিনের কর্মসূচির শুরুতে প্রধানমন্ত্রী পাকুন্দিয়ায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করেন এবং স্থানীয় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে পোনা বিতরণ করেন। এ সময় তিনি উপস্থিত মৎস্যজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার বাইরে এবারই প্রথম জাতীয় পর্যায়ের মৎস্যপক্ষের মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে কিশোরগঞ্জে। হাওর, নদী ও বিলবেষ্টিত বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলকে মিঠাপানির মাছের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা করে এ খাতের সামগ্রিক সাফল্য ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতেই কিশোরগঞ্জকে উদ্বোধনের স্থান হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা এলাকায় অবস্থিত কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এরপর দুপুর একটার দিকে আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে আয়োজিত জাতীয় মৎস্যপক্ষ-২০২৬–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। উদ্বোধনী পর্বে দেশের মৎস্য খাতে বিশেষ অবদান রাখা সফল উদ্যোক্তা ও চাষিদের মাঝে জাতীয় মৎস্য পুরস্কার ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
মৎস্যপক্ষের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেলা আড়াইটায় প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে যান। সেখানে তিনি শোলাকিয়া ময়দানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং ময়দান চত্বরে আয়োজিত বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
এরপর জেলা সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ ও সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম শেষে বিকেল চারটায় জেলা শহরের পুরোনো স্টেডিয়ামে আয়োজিত সরকারি সহায়তা প্রদান সংক্রান্ত এক বৃহৎ জনসমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে সুবিধাভোগীদের মাঝে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ, বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা অনুদান প্রদান এবং জেলার মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের সূচনা করা হবে। একই সমাবেশ থেকে দেশব্যাপী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলড্রেস ও শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ সংক্রান্ত একটি নতুন পাইলট প্রকল্পেরও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কিশোরগঞ্জের মৎস্য ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হাওরাঞ্চলে আধুনিক হিমাগার স্থাপন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং শিল্পায়ন গতিশীল করতে স্থানীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড) বাস্তবায়নের মতো দীর্ঘদিনের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাতীয় পর্যায়ের এ ধরনের আয়োজন প্রান্তিক মৎস্যচাষি ও জেলেদের অর্থনৈতিক সুরক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, দিনব্যাপী কর্মসূচি সমাপ্ত করে আজ সন্ধ্যা ছয়টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।