বাংলাদেশ ডেস্ক
বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁনকে সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহকারী (রাজনৈতিক) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রবিবার (১৯ জুলাই) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, মো. রাশেদ খাঁনকে এই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তাকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে। যোগদানের তারিখ থেকে এই নিয়োগ কার্যকর হবে। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটবে) এই নিয়োগ কার্যকর থাকবে। এছাড়া নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে এই আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সচিব পদমর্যাদায় কোনো রাজনৈতিক পদে নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সকল বাণিজ্যিক বা পেশাদার কর্মকাণ্ড থেকে অব্যাহতি নিতে হয়, যাতে স্বার্থের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়। রাশেদ খাঁনের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
এই নিয়োগের বিষয়টি সোমবার (২০ জুলাই) রাশেদ খাঁন নিজেই গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন। তিনি তার প্রতিক্রিয়ায় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক কার্যক্রম তদারকি, দলীয় ও সরকারি বিভিন্ন বিষয় সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তথ্যের যোগসূত্র স্থাপনে এই পদে দায়িত্বরত ব্যক্তি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। রাশেদ খাঁনের এই নিয়োগের মাধ্যমে সরকারের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নতুন গতিশীলতা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, রাশেদ খাঁন দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে ভূমিকা পালন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় সাধনই এখন তার প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে গণ্য হবে। প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে তার দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এই সিদ্ধান্তটি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।