1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৮:২২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) নাম ব্যবহার করে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয় ও পরবর্তী অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সারাদেশে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি সম্প্রসারণে রূপরেখা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ: গোল ও অ্যাসিস্ট ছাড়াই গোল্ডেন বল রদ্রির হাতে ফুটবল ম্যাচ চলাকালে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলায় বুয়েন্স আইরেসে দুই মৃত্যু অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বরখাস্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি রাজধানীতে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ডিএমপির বিশেষ অভিযান: ২১৬০ মামলা আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সম্মানে বিশেষ ছুটির ঘোষণা সিলেটে হামের প্রাদুর্ভাব: আরও তিন শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ২৬৫

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী অন্যান্য ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আসাদুজ্জামান খান কামালকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার জন্য দেশে ফেরত চেয়ে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। একইসাথে, ভারতে পলাতক অন্যান্য ব্যক্তিদের ফেরাতেও আলাদা আলাদা চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সমসাময়িক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ সময় সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিগত সরকারের উচ্চপদস্থ নেতা ও মন্ত্রীদের দেশত্যাগের প্রসঙ্গটি গুরুত্বের সাথে উঠে আসে। শামা ওবায়েদ ইসলাম তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, যারা দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থাকে এড়িয়ে প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের প্রত্যেককে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি জানান, পলাতক এসব ব্যক্তিদের ফেরাতে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভিন্ন ভিন্ন চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক ও আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার আশাবাদী।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্ষমতার পালাবদলের পর বিগত সরকারের একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে বিভিন্ন সূত্র ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানা যায় যে, এদের মধ্যে একটি বড় অংশ অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে অবস্থান করছেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এই পলাতকদের মধ্যে অন্যতম আলোচিত নাম। বিগত সরকারের আমলে দীর্ঘ সময় ধরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা এই রাজনীতিকের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় হত্যা, অর্থপাচার, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ ও মামলা দায়ের করা হয়েছে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং এসব মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের সম্মুখীন করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান আইনি কাঠামোর আওতায় এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হবে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালে একটি প্রত্যর্পণ চুক্তি (Extradition Treaty) স্বাক্ষরিত হয়, যা পরবর্তীকালে ২০১৬ সালে সংশোধন করে আরও যুগোপযোগী করা হয়। এই চুক্তির আওতায় উভয় দেশ তাদের নিজ নিজ ভূখণ্ডে আশ্রয় নেওয়া সাজাপ্রাপ্ত, বিচারাধীন বা অভিযুক্ত অপরাধীদের একে অপরের কাছে হস্তান্তর করতে আইনত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের যৌথ সমন্বয়ে এই চুক্তির বাধ্যবাধকতা ও শর্তাবলীর আলোকেই আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অন্যদের ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

যদিও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা মামলার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ চুক্তিতে কিছু ব্যতিক্রমী ধারা থাকে, তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রমাণ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতে পালিয়ে থাকা সাবেক মন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতাদের দেশে ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি কেবল দেশে আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপই নয়, বরং পলাতক অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে একটি বড় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

এই উদ্যোগটি বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। অপরাধীদের হস্তান্তর প্রক্রিয়া দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়ার পর এখন পুরো বিষয়টি ভারতের আইনি ও কূটনৈতিক পর্যালোচনার ওপর নির্ভরশীল।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেন যে, ভারত সরকারের সাথে কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। চিঠির জবাব বা ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ সরকার পরবর্তী আইনি ও কূটনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করবে। তবে ভারত সরকার বাংলাদেশের এই প্রত্যর্পণ অনুরোধের প্রেক্ষিতে দ্রুততম সময়ে কী ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা নির্ভর করবে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বর্তমান সমীকরণ এবং আন্তর্জাতিক আইনের চুলচেরা বিশ্লেষণের ওপর। দেশের সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহল এখন এই আনুষ্ঠানিক চিঠির জবাব ও পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বিচার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026