স্বাস্থ্য ডেস্ক
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) সকালে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে চলতি বছরে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
মারা যাওয়া তিন শিশু হলো তাসফিয়া, আব্দুল্লাহ ও তানভীর। তাদের প্রত্যেকের বয়স দেড় বছরের নিচে। শিশু তিনটি গত কয়েকদিন ধরে উচ্চ জ্বর ও শারীরিক দুর্বলতাসহ হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৬৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৮ জন সন্দেহভাজন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এই সময়ের মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নতুন কোনো রোগীর শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৫৪৫ জন ল্যাব-নিশ্চিত (কনফার্মড) হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। মৃত শিশুদের মধ্যে চারজনের ক্ষেত্রে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকিদের মৃত্যুজনিত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় হামের প্রকোপ বাড়লে তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকা শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে চিকিৎসকরা জানান, বাচ্চার শরীরে লাল র্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া, তীব্র জ্বর এবং চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীদের যথাযথ সেবা প্রদানের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিভাগের অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকেও সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে যাতে স্থানীয় পর্যায়েই প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হাম নিয়ন্ত্রণে টিকাদানের হার শতভাগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার না করলে সংক্রমণের এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিত আক্রান্ত ও সুস্থ হওয়া রোগীদের তালিকা পর্যালোচনা করছে।