আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানার উপকূলে ১১৬ জন যাত্রী ও কর্মী নিয়ে একটি ফেরিডুবির ঘটনায় বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত ১৫ শিশুসহ মোট ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ বাকি যাত্রীদের উদ্ধারে গায়ানা প্রতিরক্ষা বাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিমান বাহিনীর পাশাপাশি বেসামরিক স্বেচ্ছাসেবকরা যৌথভাবে কাজ করছেন।
গত শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে গায়ানার রাজধানী জর্জটাউন থেকে ‘এমভি বারিমা’ নামের যাত্রীবাহী নৌযানটি ভেনেজুয়েলা সীমান্তের নিকটবর্তী তেলসমৃদ্ধ এসেকুইবো অঞ্চলের পোর্ট কাইতুমার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। মাঝসমুদ্রে থাকা অবস্থায় রাত ১১টার দিকে নৌযানটি থেকে জরুরি বিপদসংকেত পাঠানো হয়। এর পরপরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়।
রবিবার (১৯ জুলাই) গায়ানার প্রধানমন্ত্রী মার্ক ফিলিপস এক বিবৃতিতে জানান, নিখোঁজদের সন্ধানে অনুসন্ধান এলাকার পরিধি ৪০০ বর্গ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ১,০৭০ বর্গ কিলোমিটারে বিস্তৃত করা হয়েছে। এই উদ্ধার অভিযানে সরকারি বাহিনীর পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিমান এবং স্থানীয় জেলেদের মাছ ধরার নৌকাগুলোও সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। জলপথের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে অভিজ্ঞ স্থানীয় জেলেদের অংশগ্রহণ উদ্ধারকাজকে আরও বেগবান করেছে।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশটির গণপূর্ত মন্ত্রী হুয়ান এডগিল জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে জাহাজটির পরিচালনায় কোনো গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মন্ত্রী জানান, ‘এমভি বারিমা’ জাহাজটির ইঞ্জিনে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না এবং এটি নির্ধারিত আইনি নিয়ম মেনেই চলাচল করছিল। এছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী বা পণ্য পরিবহনের কোনো প্রমাণও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নৌযানটির যাত্রী ধারণক্ষমতা ৩৯৭ জন এবং পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা ২৮৪ টন। দুর্ঘটনার সময় জাহাজটিতে অনুমোদিত সীমার চেয়ে কম অর্থাৎ ২৬৮ টন পণ্য ছিল। এছাড়া জরুরি সুরক্ষার জন্য জাহাজটিতে ২৫০টি লাইফজ্যাকেট, দুটি লাইফবোট ও ছয়টি ইনফ্ল্যাটেবল ভেলা মজুত ছিল। মন্ত্রী হুয়ান এডগিল আরও উল্লেখ করেন যে, এটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নয়, বরং সমুদ্রের আকস্মিক ও প্রচণ্ড জোয়ারের প্রবল তোড়ে জাহাজটি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।
উল্লেখ্য, গায়ানার উপকূলীয় অঞ্চলে এ ধরনের নৌ-দুর্ঘটনা দেশটিতে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে উদ্ধারকর্মীরা প্রতিকূল আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে সাগরের নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছেন। কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকাজে নিয়োজিতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা প্রদানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হবে। বর্তমানে পুরো উপকূলীয় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে, যেখানে নিখোঁজদের স্বজনরা অধীর অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।