1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত্যু ৭৮০ মাদক নির্মূলে রাষ্ট্রীয় কঠোর পদক্ষেপ ও সামাজিক সচেতনতার আহ্বান আন্তর্জাতিক সুন্দরী প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করছে পাকিস্তান ক্রিকেট কিংবদন্তি স্যার গারফিল্ড সোবার্স আর নেই গার্মেন্টস খাতের ব্যাংক ঋণের সুদ কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: মির্জা ফখরুল দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ: ‘কৃষিই সমৃদ্ধি’ স্লোগান বাস্তবায়নে জোর ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগে নতুন রাজনীতির ধারার সূচনা চট্টগ্রামের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে বিনামূল্যে বীজ ও টিকার উদ্যোগ চীনের সাংহাইয়ে শুরু হলো বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন ২০২৬

মাদক নির্মূলে রাষ্ট্রীয় কঠোর পদক্ষেপ ও সামাজিক সচেতনতার আহ্বান

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

রাজনীতি ডেস্ক

মাদককে দেশের বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান সংকট হিসেবে উল্লেখ করে এটি নির্মূলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ও সামাজিক আন্দোলনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি বলেছেন, মাদকদ্রব্যের বিস্তার দেশের জনমিতিক সুফলের সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করছে, যা জাতীয় অগ্রগতির পথে বড় বাধা।

শুক্রবার বরিশালের চরমোনাই ইউনিয়নে স্থানীয় জনসাধারণের আয়োজনে ‘মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে সুধী সেমিনার ও আলোচনা সভা’ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি রেজাউল করীম বলেন, একটি দেশের উন্নয়নের জন্য জনমিতিক লভ্যাংশ বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগানো অত্যন্ত জরুরি। জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দেশে শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা গেলে দেশ দ্রুত উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতো। তবে অতীতে যথাযথ পরিকল্পনার অভাবে জনশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি, বরং মাদকের অবাধ বিস্তার তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

মাদক নিয়ন্ত্রণের কৌশল সম্পর্কে তিনি বলেন, কেবল সামাজিকভাবে সচেতনতা সৃষ্টি করলেই মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এর জন্য মাদকের চাহিদা ও সরবরাহ—উভয় দিক থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, মাদকের চাহিদা কমানোর ক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতা ও নৈতিক শিক্ষা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, কিন্তু মাদকের সরবরাহ লাইন বা সিন্ডিকেটগুলো ভেঙে দেওয়ার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে এক্ষেত্রে আরও কঠোর ও নিরপেক্ষ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

চরমোনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ জিয়াউল করীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে বক্তারা মাদকের ভয়াবহ সামাজিক ও শারীরিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা উল্লেখ করেন, মাদকাসক্তির কারণে পারিবারিক কলহ, অপরাধ প্রবণতা এবং সামাজিক অস্থিরতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের একটি বড় অংশ এই মরণনেশার কবলে পড়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে।

সেমিনারে বক্তারা চরমোনাই ইউনিয়নসহ দেশব্যাপী মাদকবিরোধী আন্দোলনকে আরও বেগবান করার সংকল্প ব্যক্ত করেন। মাদকের আগ্রাসন থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আলোচনা সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় রোধে পরিবার ও সমাজকে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো প্রভাবশালী বা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় মাদক বিক্রেতারা যেন ছাড় না পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বরিশালের মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) এডিসি (দক্ষিণ) মুহাম্মাদ বেলাল হুসাইন এবং কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অবস্থান তুলে ধরেন। তারা জানান, মাদক কেনাবেচা ও পাচার রোধে পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে জনসাধারণের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

সেমিনারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মাওলানা সৈয়দ এসহাক মুহাম্মদ আবুল খায়েরসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনের পূর্বশর্ত হলো মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, যা বর্তমান সময়ের অপরিহার্য দাবি।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026