বাংলাদেশ ডেস্ক
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার দেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং সাশ্রয় হবে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সৌরবিদ্যুতের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো জীবাশ্ম জ্বালানির প্রয়োজন হয় না। ফলে বিশ্ববাজার থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর চাপ কমবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিদ্যুৎ খাতের আধুনিকায়ন এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি ও মূল্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দেশের গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুৎ ব্যবহারের চিত্র বিবেচনায় নিয়ে সরকার নীতি নির্ধারণ করেছে। গ্রামাঞ্চলে সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের গড় হার মাসে ৭৫ ইউনিট বা তার কম। জনস্বার্থ রক্ষায় এই স্তর পর্যন্ত বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য মূল্যের কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যেন কোনোভাবেই বিদ্যুৎ ব্যয়ের কারণে আর্থিক চাপে না পড়েন, সেটি নিশ্চিত করতেই সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান এবং কৃষকদের সহায়তার জন্য কৃষি কার্ড প্রবর্তনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুন খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় বিভিন্ন ইউনিয়নে সেলাই মেশিন, নলকূপ ও কৃষি কাজের সুবিধার্থে স্প্রে মেশিন বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বেঞ্চ এবং ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান করা হয়। সরকারের এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষের সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।