সংসদ বিষয়ক ডেস্ক
কাতারের সাবেক আমির এবং বর্তমান আমিরের পিতা শেখ হামাদ বিন খলিফা আল সানির মৃত্যুতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শোক ও সমবেদনা জানাতে দোহা সফর শেষে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম। আজ বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত ১৪ জুলাই দুপুরে স্পিকার সংক্ষিপ্ত সরকারি সফরে কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছান। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল সানির কাছে একটি আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা হস্তান্তর করা। কাতারের সাবেক আমিরের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং শোকসন্তপ্ত রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করার লক্ষ্যেই এই সফর সম্পন্ন হয়।
সফরের অংশ হিসেবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কাতারের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা হস্তান্তর করেন। সাক্ষাতকালে স্পিকার বাংলাদেশের সরকার এবং জনগণের পক্ষ থেকে কাতারের রাজপরিবারের সদস্য এবং দেশটির ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তিনি প্রয়াত আমিরের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তাঁর দীর্ঘস্থায়ী অবদানের কথা স্মরণ করেন। এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শোকবার্তা হস্তান্তর প্রক্রিয়াটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উষ্ণতাকে প্রতিফলিত করে।
শোকবার্তা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্পিকার কাতারের শুরা কাউন্সিলের স্পিকার হাসান বিন আবদুল্লাহ আল-গানিমের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। ওই বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং সংসদীয় অঙ্গনে পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় দেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়েও ঐকমত্য পোষণ করেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, শেখ হামাদ বিন খলিফা আল সানির মৃত্যুতে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই উচ্চপর্যায়ের সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও শ্রমবাজারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। স্পিকারের এই সফরের মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং সংসদীয় কূটনীতি আরও বেগবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্পিকারের সফরসঙ্গী হিসেবে জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং সংসদ সচিবালয়ের প্রতিনিধিরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তিন দিনের এই সংক্ষিপ্ত সফর শেষে তিনি সফলভাবে দায়িত্ব পালন শেষে দেশে ফিরে এলেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী, যেকোনো বন্ধুরাষ্ট্রের জাতীয় শোক ও সংকটের মুহূর্তে পাশে দাঁড়ানোর যে ধারাবাহিকতা, স্পিকারের এই সফর তারই একটি অংশ।