রাজনীতি ডেস্ক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অসুস্থ হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ২৫ জুন সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর গতকাল তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থার কারণে আপাতত সাক্ষাৎপ্রার্থীদের হাসপাতালে না যাওয়ার জন্য চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বুধবার সকালে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নজরুল ইসলাম খান দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তিনি কিছুদিন আগে সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়া শেষ করে সম্প্রতি ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন। তবে দেশে ফেরার পর পুনরায় অসুস্থতাবোধ করায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে জরুরি ভিত্তিতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে আজ সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই প্রবীণ নেতাকে দেখতে যান বিএনপির চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। তিনি সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে নজরুল ইসলাম খানের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়ার খোঁজখবর নেন। শিমুল বিশ্বাস দলের পক্ষ থেকে প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, হাসপাতালের চিকিৎসকরা নজরুল ইসলাম খানকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে এবং তার শারীরিক অবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হাসপাতালে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। দলের নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আপাতত হাসপাতালে ভিড় না করে তার সুস্থতার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানানো হয়েছে। চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল সার্বক্ষণিকভাবে তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন।
নজরুল ইসলাম খান বাংলাদেশের অন্যতম একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দলের নীতি নির্ধারণী পর্যায়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তার আকস্মিক অসুস্থতার খবরে বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার শারীরিক অবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে পরবর্তী চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।