1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০৪:০৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
নেদারল্যান্ডস ও মরক্কোর হাইভোল্টেজ ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে রাউন্ড অব ৩২ জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর রেললাইনের ওপর থেকে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক সরানোর পর রাজবাড়ী-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ: তিন ধাপে দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের রূপরেখা ঘোষণা সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি অসুস্থ হয়ে ঢামেক হাসপাতালে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পুনরায় কারাগারে একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ারের জানাজা আগামীকাল যাত্রাবাড়ীতে ডিএমপির বিশেষ অভিযান, বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২৩ জন গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভিওন চেয়ারম্যান অগি ফাবেলার সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাকা সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সাথে জাপানি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক

বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতি জগতের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, বরেণ্য চিত্রশিল্পী এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন। সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তার প্রয়াণে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, ফুসফুসের জটিলতা ও নিউমোনিয়ার ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন তিনি রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সোমবার সকালে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরেও প্রোস্টেট ক্যানসারের কারণে এই প্রথিতযশা শিল্পী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সে সময় তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ভারতের দিল্লিতে দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে তিনি সুস্থ হয়ে দেশে ফেরেন। কিন্তু বয়স ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে এবার নিউমোনিয়ার সংক্রমণ গুরুতর রূপ নিলে তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

মুস্তাফা মনোয়ার ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর যশোর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা কবি গোলাম মোস্তফা ছিলেন বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল। পারিবারিক সাংস্কৃতিক আবহে বেড়ে ওঠা মুস্তাফা মনোয়ার কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অব আর্ট অ্যান্ড ক্রাফটস থেকে চারুকলায় উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে (বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ) শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপ-মহাপরিচালক, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশের পুতুলনাট্য বা পাপেট চর্চায় মুস্তাফা মনোয়ারকে বলা হয় একক পথিকৃৎ। গ্রামীণ লোক ঐতিহ্যকে আধুনিক পাপেটের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাপেটের মাধ্যমে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতা এবং বাঙালিদের প্রতিরোধের গল্প ফুটিয়ে তুলে জনমত গঠনে ও মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করতে অনন্য ভূমিকা পালন করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণে তার বৈপ্লবিক চিন্তাধারা দেশের শিশু বিনোদনে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। বিশেষ করে বিটিভির জনপ্রিয় পুতুলনাট্য অনুষ্ঠান ‘মনের কথা’র মাধ্যমে তিনি শিশুদের মাঝে মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

চিত্রকলা, পাপেট, টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ এবং দেশের সাংস্কৃতিক নীতি নির্ধারণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০০৪ সালে তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত করে। এ ছাড়াও তিনি শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কারসহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেছেন।

সাংস্কৃতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুস্তাফা মনোয়ারের চলে যাওয়া বাংলাদেশের শিল্প ও পাপেট সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি কেবল একজন শিল্পীই ছিলেন না, বরং কয়েক প্রজন্মের শিল্পীদের পথপ্রদর্শক ছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশের বুদ্ধিজীবী, শিল্পী সমাজ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন ও জানাজা শেষে এই গুণী ব্যক্তিত্বের মরদেহ সমাহিত করা হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026