শীর্ষ সংবাদ ডেস্ক
পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠন—এই তিন ধাপে দেশের অর্থনীতিকে সাজানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল বিদেশি ঋণের বোঝা কাটিয়ে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের (বাজেট অধিবেশন) ১৮তম কার্যদিবসে অংশ নিয়ে সরকারপ্রধান এই গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা তুলে ধরেন। তাঁর ভাষণে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের বাস্তব চিত্র, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার বিশদ বিবরণ উঠে আসে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আইনসভায় সরকারি ও বিরোধী দলের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদে নীতি নির্ধারণী কিছু বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দ্বিমত থাকলেও সামগ্রিকভাবে জনগণের মধ্যে একটি ইতিবাচক আশার সঞ্চার করা সম্ভব হয়েছে। তবে সংসদীয় আলোচনায় অতীতমুখী বিতর্কের চেয়ে ভবিষ্যৎমুখী গঠনমূলক আলোচনার প্রতি জনগণের প্রত্যাশা বেশি এবং সরকার সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
আসন্ন জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, এই বাজেট কেবল গতানুগতিক বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; বরং এটি দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির একটি শক্তিশালী ভিত গড়ে তোলার সুদূরপ্রসারী দলিল। প্রস্তাবিত বাজেটকে সুন্দর, স্বাভাবিক ও বাস্তবমুখী হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি দাবি করেন, এটি সব শ্রেণী-পেশার মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কমানো এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার চলমান নানামুখী সংকটকে যেমন অস্বীকার করছে না, তেমনি একে দায়িত্ব এড়ানোর অজুহাত হিসেবেও ব্যবহার করতে চায় না। সংকট মোকাবিলায় ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৬১টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে, যার ফলে বাজারে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ভাষণে বিগত সরকারের উন্নয়ন দর্শনের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে পূর্ববর্তী সরকার দেশের ওপর বিপুল পরিমাণ বিদেশি ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। এই অপরিকল্পিত ঋণের দায় দেশের জনগণকে দীর্ঘ বছর ধরে বহন করতে হবে, যা বর্তমান অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে জনগণের রায় নিয়ে সরকার সংসদে এসে দেশের সার্বিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে এবং অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে নিয়মতান্ত্রিক শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠন’ মডেল যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে তা দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। একই সাথে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার ও রাজস্ব খাতের সংস্কার নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরে আসবে।