জাতীয় ডেস্ক
মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি অবস্থায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি (৬১) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আজ সোমবার (২৯ জুন) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে তিনি কারাকক্ষে অসুস্থতা বোধ করলে কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাকে আবারও চিকিৎসকদের পরামর্শে কারাহেফাজতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, সকালে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শারীরিক অসুস্থতা বোধ করলে কারাকর্তৃপক্ষের একটি দল তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। পরীক্ষা শেষে বড় ধরনের কোনো জটিলতা না থাকায় এবং চিকিৎসকদের ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাকে পুনরায় মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
কারা সূত্র ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন সাবেক এই মন্ত্রী। আজ ভোরে হঠাৎ করেই তিনি তীব্র শারীরিক অস্বস্তি ও অসুস্থতা বোধ করেন। কারাগারের প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রে তাকে দেখার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় কারা প্রশাসন। কঠোর নিরাপত্তাবলয়ের মধ্য দিয়ে তাকে সকালে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তার ইসিজিসহ কিছু প্রাথমিক ও প্রয়োজনীয় প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করা হয় বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মতে, বয়স এবং দীর্ঘদিনের কিছু ক্রনিক শারীরিক সমস্যার কারণে সাময়িক এই অসুস্থতা তৈরি হতে পারে। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে প্রতীয়মান হয়। কোনো ধরনের জরুরি অস্ত্রোপচার বা দীর্ঘমেয়াদি হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজনীয়তা না থাকায় তাকে প্রাথমিক প্রেসক্রিপশন ও নির্দেশনা দিয়ে কারাগারে ফেরত পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, বিগত সরকারের পতনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়ের হওয়া একাধিক রাজনৈতিক ও ফৌজদারি মামলায় ডা. দীপু মনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে আদালতের নির্দেশে তিনি দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি জীবন যাপন করছেন। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তার আইনজীবীরা আদালতে তার বয়স ও চিকিৎসাগত দিক বিবেচনা করে জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে কারাবন্দি রেখেই চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা রয়েছে প্রশাসনের প্রতি।
কারা কর্তৃপক্ষের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, কারাগারে বন্দিদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবেই এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আইনি বাধ্যবাধকতা থেকেই সাবেক এই মন্ত্রীকে দ্রুততম সময়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে তার শারীরিক অবস্থা কারা চিকিৎসকদের মাধ্যমে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার ওষুধ ও পথ্যের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।