নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজবাড়ীর সদর উপজেলার বসন্তপুর রেলগেট এলাকায় রেললাইনের ওপর বিকল হয়ে পড়া পাথরবোঝাই একটি ট্রাক প্রায় ছয় ঘণ্টা পর সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সোমবার সকাল ১০টা থেকে রাজবাড়ীর সঙ্গে ঢাকা, খুলনা ও ভাঙ্গাগামী রেল যোগাযোগ পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে। ভোর ৪টার দিকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি লাইনের ওপর উঠে যাওয়ার পর থেকে এই রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। এই ঘটনার কারণে খুলনা ও ভাঙ্গাগামী দুটি যাত্রীবাহী ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে তিন ঘণ্টারও বেশি বিলম্বে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়, যার ফলে যাত্রীদের সাময়িক ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে যশোর থেকে ছেড়ে আসা একটি পাথরবোঝাই ভারী ট্রাক রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে ট্রাকটি মহাসড়ক থেকে ছিটকে সরাসরি রেললাইনের ওপর উঠে গিয়ে আটকে পড়ে। এর পরপরই ওই রুটে সব ধরনের ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। দুর্ঘটনার কারণে ভোর থেকে রাজবাড়ী-ঢাকা ও রাজবাড়ী-খুলনা রেল সেকশনে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) মো. মাহবুব হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই রেলওয়ের উদ্ধারকারী দল এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। লাইনের ওপর আটকে থাকা ট্রাকটি অত্যন্ত ভারী এবং পাথরে বোঝাই থাকায় সেটি সরাসরি টেনে সরানো সম্ভব ছিল না। ফলে উদ্ধার কাজের সুবিধার্থে প্রথমে ট্রাকের ওপর থাকা বিপুল পরিমাণ পাথর আনলোড করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ক্রেন ও ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে মূল ট্রাকটিকে লাইনের ওপর থেকে মুক্ত করা হয়। সকাল ১০টার দিকে লাইন পুরোপুরি সচল ঘোষণা করা হয়।
সাময়িক এই দুর্ঘটনার কারণে ভোরবেলা চলাচলকারী দুটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের সময়সূচিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে। রেলওয়ে কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা থেকে ঢাকাগামী ‘নকশীকাঁথা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি লাইনে প্রতিবন্ধকতা থাকার কারণে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট বিলম্বে রাজবাড়ী স্টেশন ত্যাগ করে। অন্যদিকে, রাজবাড়ী থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গাগামী ‘রাজবাড়ী এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি প্রায় ৩ ঘণ্টা ১০ মিনিট দেরিতে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সকালের ট্রেনগুলো আটকা পড়ায় সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলোতে ঢাকাগামী ও আঞ্চলিক রুটের যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, ট্রাকটি সরিয়ে নেওয়ার পর রেললাইনের স্লিপার, ক্লিপ বা পাতের কোনো স্থায়ী ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রাথমিক পরিদর্শনে লাইনের বড় ধরনের কোনো ক্ষতি বা ত্রুটি ধরা না পড়ায় সকাল ১০টা থেকে ট্রেনের গতিসীমা স্বাভাবিক রেখেই চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রেলওয়ে পুলিশ দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং চালকের অসতর্কতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে। বর্তমানে এই রুটে ট্রেনের সময়সূচি পুনরায় স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া চলছে।