সারাদেশ ডেস্ক
দেশের প্রধান চার নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে রংপুর অঞ্চলে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসের কারণে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রবিবার (২৮ জুন) পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে উত্তরের সীমান্তঘেঁষা তিস্তা নদী ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর স্টেশনে সতর্কসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা নদী ছাতক ও সুনামগঞ্জ স্টেশনে, কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি স্টেশনে এবং ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা স্টেশনে সতর্কসীমায় অবস্থান করছে। অববাহিকাভিত্তিক নদীগুলোর পানির সমতল বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের প্রধান ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী পাঁচদিন পর্যন্ত এই অববাহিকার নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এই সময়ে নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে বড় ধরনের কোনো প্লাবনের আশঙ্কা আপাতত নেই।
অপরদিকে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল থাকলেও আগামী তিন দিন এই অববাহিকার পানির সমতল পুনরায় বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পানি বৃদ্ধি পেয়ে জেলা দুটির নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে একটি স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন, মনু ও যাদুকাটা নদীর পানি কিছুটা হ্রাস পেলেও ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী তিনদিন আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তিস্তা নদীর পানি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুইদিন এই অঞ্চলের নদীগুলোর পানি আবারও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে তৃতীয় দিনে গিয়ে স্থিতিশীল হতে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে নদীসংলগ্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলগুলোতে স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে, যা স্থানীয় আমন ও অন্যান্য ফসলের ক্ষতি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, জিঞ্জিরাম, ভুলাই ও কংস নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। পাউবো জানিয়েছে, এই পানি বৃদ্ধি আগামী তিনদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এই সময়ে নদীগুলো নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলায় সতর্কসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে নদীসংলগ্ন কিছু কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া, ফেনী, হালদা ও মাতামুহুরী নদীর পানি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চলে আগামী তিনদিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় এই অঞ্চলের নদীগুলোর পানি অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নদ-নদীর পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।