1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৩:৩২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ যুক্তরাজ্য ভিসায় জালিয়াতি ও প্রতারণা রোধে বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্কবার্তা প্রদান কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার রেকর্ড ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা স্বল্প সময়ে জনকল্যাণমুখী ও সাহসী বাজেট দিয়েছে সরকার: জাতীয় সংসদে হুইপ অপু মোহাম্মদপুরে ‘পাটালি গ্রুপের’ সেকেন্ড ইন কমান্ডসহ গ্রেপ্তার ৮ করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত, ব্যাংকে টিআইএন বাধ্যতামূলক হচ্ছে না প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত হয়েছে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নির্যাতিত তৃণমূল নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি শামা ওবায়েদের ১০০০ ও ৫০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি সংসদ সদস্য মাহবুব উদ্দিন খোকনের চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া সফরে গেলেন সেনাপ্রধান

ইতালির প্রলোভনে লিবিয়ায় নিখোঁজ মাদারীপুরের হেমায়েত: ৩ মাসেও গ্রেফতার হয়নি মানবপাচারকারী চক্রের কেউ

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

আইন আদালত ডেস্ক

ইউরোপের দেশ ইতালিতে পাঠিয়ে ভাগ্য বদলানোর প্রলোভন দেখিয়ে মাদারীপুরের এক যুবককে লিবিয়ায় পাচার ও বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবকের পরিবার মাদারীপুর মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করলেও দীর্ঘ তিন মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফলে নিখোঁজ যুবকের সন্ধান লাভ এবং ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে চরম ক্ষোভ ও গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।

মামলার বিবরণ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার পূর্ব রাস্তি গ্রামের মতিন মোল্লার ছেলে হেমায়েত মোল্লা (২৮) দীর্ঘদিন ধরে বেকার ছিলেন। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে তিনি বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই সুযোগে তাকে সরাসরি ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখায় একটি স্থানীয় সংঘবদ্ধ দালাল চক্র। উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখে হেমায়েতের পরিবার জমিজমা বিক্রি, ধার-দেনা এবং আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ধাপে ধাপে মোট ২২ লাখ ৭৩ হাজার ৩০০ টাকা দালালের হাতে তুলে দেয়।

তবে ইতালিতে পাঠানোর পরিবর্তে হেমায়েতকে কৌশলে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে লিবিয়ার একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে হেমায়েতের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায় চক্রটি। সেই নির্যাতনের অডিও ও ভিডিও দেখিয়ে বাংলাদেশে অবস্থানরত তার পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব এবং মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যমের সাহায্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়। অর্থ আদায়ের পর থেকেই হেমায়েতের সাথে তার পরিবারের সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের শেষের দিকে লিবিয়ায় অবস্থানরত অন্যান্য প্রবাসীদের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে যে, নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে হেমায়েত মারা গেছেন। তবে সরকারি কোনো নথি বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রমাণ না থাকায় পরিবার এখনও তার প্রকৃত পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি।

এই নির্মম ঘটনার প্রতিকার চেয়ে নিখোঁজ হেমায়েতের ভাই বেলায়েত মোল্লা বাদী হয়ে গত ১৬ মার্চ মাদারীপুর মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন—মাদারীপুর সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ গ্রামের হেদায়েত Lস্কর, আলো বেগম, মোতালেব লস্কর এবং ঝিকরহাটি গ্রামের আজাদ দর্জি ও পলি আক্তার। তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। নিখোঁজ হেমায়েতের ভাই বেলায়েত মোল্লা জানান, ইউরোপের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সর্বস্ব লুটে নেওয়া হয়েছে এবং তার ভাইয়ের জীবন বিপন্ন করা হয়েছে। তিনি অনতিবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা জানান যে, মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের দালাল চক্র অত্যন্ত সক্রিয়। তারা গ্রামের সহজ-সরল ও বেকার যুবকদের টার্গেট করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর নামে লিবিয়ার মরুভূমি কিংবা ভূমধ্যসাগরের বিপজ্জনক পথে ঠেলে দিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম সুজন জানান, দালালদের খপ্পরে পড়ে বহু পরিবার আজ নিঃস্ব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত দ্রুত এই চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা।

মাদারীপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলাটি ভৌগোলিকভাবে মানবপাচারের অন্যতম প্রবণতাযুক্ত অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত। মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, মানবপাচার প্রতিরোধে জেলা পুলিশ অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। এই মামলার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলমান রয়েছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার অবৈধ প্রবণতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে বারবার উঠে এসেছে যে, এই রুটে পাচারের শিকার হয়ে শত শত বাংলাদেশি যুবক নিখোঁজ কিংবা মৃত্যুবরণ করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল মামলার মাধ্যমেই এই অপরাধ দমন সম্ভব নয়, বরং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর কঠোর ও দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। হেমায়েতের পরিবারের মতো আর কোনো পরিবার যেন এভাবে প্রতারিত ও নিঃস্ব না হয়, সেজন্য প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026